১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারকে হত্যার পর খুনিরা ‘বাসায় গোসল করে খেজুর খায়’

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এই দাবি করেন।

রংপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2026, 08:03 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:53 PM

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদের বরাতে পুলিশ দাবি করেছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। 

পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা ওই বাড়িতেই গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায় এবং পরে সেখানে ইয়াবা সেবন করে। 

শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এরপর রোববার ভোরে মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটকের কথা জানায় পুলিশ। সিদ্ধার্থ নগরীর পিকে জুয়েলার্সে কাজ করেন। আর মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কর্মরত।

দুপুর পৌনে ১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে স্থানীয় সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান।

“সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন। এ সময় তাকে গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন। শব্দ শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে এলে সিঁড়িতে তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী সেখানে এলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।”

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, “আগামীকে হত্যায় কয়েক মিনিট সময় লাগে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গামছার পাশাপাশি গলা ও বুকে রশি পেঁচিয়ে টানা হয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায়। এরপর গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকেও কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।”

মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, “এরপর তারা ওই বাড়ির বাথরুমে গিয়ে গোসল করে। ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খায়। পরে সেখানেই আরও এক দফা ইয়াবা সেবন করে।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিজেদের পরিচয় ও উপস্থিতির চিহ্ন মুছে ফেলতে দুটি স্মার্টফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে চুবিয়ে রাখা হয়। এ ছাড়া বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার পরীক্ষা করতে আগুন জ্বালানো হয়।

পুলিশের দাবি, স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর জন্য ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়। পরে মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে স্বর্ণালংকার লুকিয়ে রাখে তারা। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পর সকাল হয়ে যাওয়ায় এলাকায় মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। ফলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন অভিযুক্তরা। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট তুলনামূলক ফাঁকা থাকায় ওই সময় তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।”

এ ঘটনায় রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় তার বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী হত্যা মামলা করেছেন।। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।

আরও পড়ুন:

'ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায়' রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন: পুলিশ

গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের আর কেউ রইল না 

'ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায়' রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুন: পুলিশ

ফোনে না পেয়ে বাসায় এসে বোনসহ চারজনের লাশ পেলেন পূজা চক্রবর্তী

রংপুরে ৪ খুন: শিক্ষক পরিবারের লাশ পড়েছিল ছাদে-সিঁড়িতে-ঘরে

রংপুরে শিক্ষক পরিবারকে হত্যা: 'এক ভয়াবহ বার্তা'