১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুরে শিক্ষক পরিবারকে হত্যা: ‘এক ভয়াবহ বার্তা’

শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2026, 04:52 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:53 PM

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। 

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সংগঠনটি বলছে, “একই পরিবারের চারজন মানুষকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ওপর বর্বর আঘাত নয়; এটি রাষ্ট্রের নাগরিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার এক ভয়াবহ বাস্তব বার্তা।”

রোববার সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবর রহমান সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। 

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার রাতে বাসায় গিয়ে চারটি মরদেহ পায় পুলিশ।

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ বিবৃতিতে বলেছে, “দেশে ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যা এবং শিক্ষক সমাজের ওপর বহিষ্কার, হয়রানি, নির্যাতন ও হামলার ঘটনা ঘটেই চলছে। এসব ঘটনায় জনমনে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠছে। নাগরিকের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমরা অবিলম্বে এসব ঘটনার কার্যকর প্রতিকার ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এতে বলা হয়, “গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। 

“কোনো রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা প্রভাবশালী মহলের চাপ কিংবা পরিচয়ের কারণে যেন কোনো অপরাধী দায়মুক্তি না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে শিক্ষক, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, নারী, শিশু এবং সাধারণ নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”

বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ দাবি করছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার, প্রতিটি নির্যাতনের প্রতিকার এবং প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:

ফোনে না পেয়ে বাসায় এসে বোনসহ চারজনের লাশ পেলেন পূজা চক্রবর্তী

রংপুরে ৪ খুনশিক্ষক পরিবারের লাশ পড়েছিল ছাদে-সিঁড়িতে-ঘরে

'ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায়রংপুরে শিক্ষক পরিবারে চার খুনপুলিশ