হরতালের সমর্থনে ভোলায় বিএনপির মিছিল

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ভোলা জেলা ছাত্রদলের সভাপতির মৃত্যুতে এই হরতাল ডাকা হয়।

ভোলা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 August 2022, 03:27 PM
Updated : 3 August 2022, 03:27 PM

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ভোলা জেলা ছাত্রদলের সভাপতির মৃত্যুতে ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে মিছিল করেছে বিএনপি।

আহত হওয়ার চার দিনের মাথায় ছাত্রদল নেতা নূরে আলম বুধবার বিকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পরই হরতালের ডাক দেয় দলটি।

নূরে আলমের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিকেলে দলের নেতাকর্মীরা শহরের মহাজনপট্টি এলাকার জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হরতালের ঘোষণা দেন জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর।

সমাবেশ শেষে হরতালের সমর্থনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের সদর রোড প্রদক্ষিণ করে কে-জাহান মাকের্টের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে করে আবার মিছিল নিয়ে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ফিরে যান নেতাকর্মীরা।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোপান বলেন, ভোলা জেলা বিএনপির ডাকে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হবে। এ ছাড়া সকাল থেকে কালো পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনিমিত রাখা এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।

নূরে আলম (৩৫) ভোলা পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরনোয়াবাদ এলাকার সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সালেহ্র ছেলে। তার বাবা-মা বেঁচে নেই। তারা তিন ভাই এবং তিন বোন। নূরে আলম স্ত্রী ও চার বছর বয়সী কন্যা আফরা বিনতে আলমকে রেখে গেছেন।

লোডশেডিং ও জ্বালানি অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার ভোলায় বিএনপি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে মিছিল বের হলে তাতে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতাকর্মীরা।

এতে পুলিশসহ দলটির অনেক নেতাকর্মী আহত হন। ওইদিন আবদুর রহিম নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সদস্য নিহত হন। জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলমের মৃত্যুর ঘটনায় এ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হলো। যদিও পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে সেদিন তারা লাঠিপেটা করে এবং কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

ওইদিনের সংঘর্ষে নূরে আলমের মাথায় গুলি লাগে। পরে তাকে ভোলা থেকে ঢাকায় নিয়ে এসে কমফোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান।

পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় একটি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আবদুর রহিম হত্যার ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যানসহ বিএনপির চার শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করেছে পুলিশ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক