Published : 12 Mar 2026, 12:02 AM
রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ‘অনলাইন গ্রুপ কলে’ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় যুবলীগের এক কর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বুধবার যুবলীগের ওই কর্মী তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান এ থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজ।
অভিযোগে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
প্রাণনাশের হুমকি পাওয়া ফয়সাল সরকার অমি (৩৫) যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সোমবার রাত ১১টার দিকে আত্মগোপনে থাকা ফারুক চৌধুরী অনলাইন গ্রুপ কলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনায় ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন খাত থেকে নেতাদের অর্থ নেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় ফয়সাল সরকার বলেন, ‘টাকা আপনি খাইছেন, ওদের হাত দিয়া।’
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক চৌধুরী তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুই সামনে পড়িস। তোর অবস্থা কিন্তু একদম খারাপ হয়ে যাবে।’
ফয়সাল সরকারের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ফারুক চৌধুরী বিভিন্ন সময় অনলাইনে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ওই দিন তাকে গ্রুপ কলে যুক্ত হয়ে কথা বলতে বলা হয়। তিনি সেখানে যোগ দিয়ে তানোর উপজেলায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য এবং গভীর নলকূপ প্রকল্পে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানান।
বিশেষ করে তানোর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আত্মগোপনে থাকা আবুল বাসার সুজনের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। এসব বিষয় তুলে ধরে প্রতিবাদ করায় ফারুক চৌধুরীসহ অন্যরা তাকে গালিগালাজ করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
ওসি এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চব্বিশের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর সাবেক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ভারতে পালিয়ে যান। সংসদ সদস্য থাকাকালে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বেফাঁস মন্তব্য ও আচরণের কারণে প্রায়ই আলোচনায় থাকতেন আওয়ামী লীগের এ নেতা।