Published : 17 Jun 2026, 05:18 PM
জামালপুরে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় তার স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় দেন বলে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলাল সেক জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মজর উদ্দিনের ছেলে।
আর যাবজ্জীবন পাওয়া আসামি রাজিব হোসেন একই উপজেলার বাঘার চর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে ।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০০৮ সালের ২৬ মে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নাইফুল বেগমকে মারধরের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন তার স্বামী আলাল সেক।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিচারকালে প্রধান আসামি আলাল সেক ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আলাল সেককে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে, ২০১৫ সালের ৭ জুন রাত দেড়টার দিকে দেওয়ানগঞ্জের বাঘার চর এলাকায় এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী রাজিব হোসেন।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে রাজিবকে হাতেনাতে ধরে ফেললেও তিনি ধস্তাধস্তি করে পালিয়ে যান।
পরদিন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রাজিব হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে উভয় আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে বিচারক অর্থ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান।