Published : 01 Dec 2025, 06:47 PM
সনদ জালিয়াতির অভিযোগ এনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক কারণে’ এই মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নাটোরের আমলি আদালতে সিংড়ার সাওইল গ্রামের মো. মাসুদ আলী নামে এক কৃষক মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার স্নাতকের নিবন্ধন নম্বর, রোল ও শিক্ষাবর্ষ ব্যবহার করে সনদ জালিয়াতি করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছে।
মামলার পর পরই মোশাররফ হোসেনের নির্বাচনি এলাকা কাহালু এবং নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিক্ষোভ করেছেন তার সমর্থক নেতাকর্মীরা। তারা মামলার প্রতিবাদ জানান।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সার্টিফিকেট আমার কাছে আছে। আমি সেই সার্টিফিকেট নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। তারা আমার সার্টিফিকেট দেখে অফিসে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পায় এবং সার্টিফিকেট ফটোকপি সত্যায়িত করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি ভুয়া কাগজ দেয় তাহলে তারাও বিপদে পড়বে। এটা তারা কখনও করবে না।”
মোশাররফ হোসেন বলেন, “তবে, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কাউকে দিয়ে মামলা করে আমার সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। এ কারণেই মামলা করা হয়েছে। তদন্তে সঠিকটা উঠে আসবে। তখনই আমি ওইসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
চার দিনের মাথায় মামলা প্রত্যাহারের আবেদন
বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে স্নাতকের সনদ জালিয়াতির অভিযোগে নাটোরের আদালতে করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন বাদী।
সোমবার বেলা ৩টার দিকে সিংড়ার আমলী আদালতের বিচারক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর কাছে এ আবেদন করা হয় বলে জানান বাদীর আইনজীবী মাসুদ রানা।
বাদীপক্ষ কোনও পদক্ষেপ না নিলে আগামী পহেলা মার্চ মামলাটি প্রত্যাহার হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিংড়ার সাওইল গ্রামের মো. মাসুদ আলী নামের এক কৃষক বাদী হয়ে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে সিংড়া আমলী আদালতে মামলাটি করেন। পরে বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে নাটোরের পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
আইনজীবী মাসুদ রানা বলেন, “দুপুরে বাদী অনেক লোকজন নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘মামলাটি আর চালাতে চাই না।’ পরবর্তীতে বাদী কোনও পদক্ষেপ না নিলে পহেলা মার্চ মামলাটি প্রত্যাহার হয়ে যাবে।
“কিন্তু এ সময়ের মধ্যে যদি বাদী এসে বলেন, মামলা চালাতে ইচ্ছুক, তাহলে মামলা চলবে। আজকে আবেদন দেওয়ার পরে বাদীর জবানবন্দি নিয়েছেন বিচারক।”
আরও পড়ুন: