Published : 06 Jul 2026, 09:40 PM
ময়মনসিংহ নগরীতে রাজিব আহমেদ ওরফে রুবেলকে (৪০) গলাকেটে হত্যার ঘটনায় চার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে তাদের মা পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরদিন সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার চার ভাইয়ের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
রোববার নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের পাশের কলোনির একটি বাসা থেকে রুবেলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।
পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, প্রায় এক মাস আগে রুবেল একটি বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে ওঠেন। মালিক হিসেবে বাড়িটি গৃহকর্ত্রী দেখভাল করেন। পরবর্তীতে ভাড়াটিয়া রুবেলের সঙ্গে বাড়ির মালিক ও তার ছেলেদের বিবাদ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাড়ির মালিক ও তার ছেলেরা রুবেলকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাগিদ দিতে থাকে।
“এ অবস্থায় রোববার ভোরবেলায় ভাড়াটিয়া রুবেল এবং বাসার মালিক ওই নারী বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রুবেল বাসার মালিক নারীকে ‘যৌন নিপীড়ন’ করেন।”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “মায়ের সঙ্গে হওয়া ঘটনাটি জানতে পেরে পরিকল্পিতভাবে চার ছেলে রুবেলকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই দিন রাতেই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
বাড়ির মালিক ওই নারী পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হত্যার ঘটনায় রোববার রাতে নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল হামিদ কোতোয়ালী মডেল থানায় বাড়ির মালিক নারীসহ ১১ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও তিন-চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বাদী বলেন, প্রায় মাস খানেক আগে রুবেল একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একা বসবাস শুরু করেন। বাসা নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়ির মালিক নারীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে বাড়িওয়ালী তাকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তবে কিছু সময় চাইলেও রুবেলকে বাড়িওয়ালী ও তার ছেলেরা নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
মামলায় বলা হয়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাসা ছাড়াকে কেন্দ্র করে আবারও বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বাড়িওয়ালী ও তার ছেলেদের সঙ্গে অন্য আসামিরা রুবেলের কক্ষে ঢুকে তাকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে চলে যায়।