Published : 28 Nov 2025, 08:31 PM
স্নাতকের সনদ জালিয়াতির অভিযোগে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোরের সিংড়ার আমলি আদালতের বিচারক শুনানি শেষে জেলা পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন বলে বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. মাসুদ রানা জানান।
মামলার বাদী সিংড়া উপজেলার সাওইল গ্রামের মো. মাসুদ আলী। অপরদিকে সাবেক সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন (৫১) বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল এলাকার বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোশারফ কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
মামলার বরাতে আইনজীবী মাসুদ রানা বলেন, মাসুদ আলী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে বিএসএস’র ছাত্র ছিলেন। তার নিবন্ধন নম্বর ২১২৪৯৩ এবং পরীক্ষার রোল ১৩৬৮৬৯। মাসুদ আলী প্রথমবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন। পরে আর তিনি পরীক্ষা দেননি।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মোশারফ হোসেন ‘চতুরতার মাধ্যমে’ বাদীর রোল ও রেজিস্ট্রশন নম্বর ব্যবহার করে একই শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পাসের একটি সনদ সংগ্রহ করেছেন।
২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি সেই সনদ দেখিয়ে বগুড়া আজিজুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পর্যদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তখন বিষয়টি তার আগের সভাপতি চ্যালেঞ্জ করেন। তখন বাদী তার রোল, নিবন্ধন নম্বর ও শিক্ষাবর্ষ ব্যবহারের বিষয়টি জানতে পারেন।
বাদীর আশঙ্কা, তার রোল ও নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে আসামি ‘বড় ধরনের কোনো অপকর্ম’ ঘটাতে পারেন, যাতে বাদীর ‘অপূরণীয় ক্ষতির’ আশঙ্কা রয়েছে।
মামলার বাদী মাসুদ রানা বলেন, “আমি কৃষক মানুষ। আমার রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর জালিয়াতি করে উনি জাল সনদ তৈরি করেছেন, তাই আমি মামলা করেছি। উনি কে বা কী করেন এটা আমার জানার বিষয় না।”
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আদালতের এমন কোনো নির্দেশনা হাতে পাইনি। আদালতের আদেশের কপি হাতে পেলে তদন্ত করে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। চলতি বছরের ২৮ মে আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ তুলেছি। রেজিস্ট্রেশন কার্ড থেকে শুরু করে সব মূল কাগজ আমার কাছে আছে। আমার বিরোধী ও দলের মনোনয়ন বঞ্চিতরা, আমর সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য কাউকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলা করেছেন।”