Published : 07 Jul 2026, 12:15 PM
অসংখ্য অর্জন ও রেকর্ডে সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার। ফুটবল ইতিহাসে চিরকালীন জায়গা, বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় ট্রফিটি অধরাই রইল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। তার পরও অবশ্য তাকে অনন্য উচ্চতায় রাখছেন পর্তুগাল কোচ রবের্তো মার্তিনেস।
২০১৬ ইউরো ও পরে দুটি উয়েফা নেশন্স লিগ জয়ের পর বিশ্বকাপই বাকি ছিল রোনালদোর। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতে সেই যে ২০০৬ বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনালে খেলেছিলেন, এরপর আর কখনও কোয়ার্টার-ফাইনাল পার হতে পারেননি তিনি।
এবার ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে এসে ছয় বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। কিন্তু যথারীতি শিরোপার মঞ্চের ধারেকাছে যেতে পারেননি।
সেই সুযোগও ভবিষ্যতে আর নেই। বয়স পেরিয়ে গেছে ৪১। আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, এবারই তার শেষ বিশ্বকাপ। স্পেনের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর আবার নিশ্চিত করেছে, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত না নিলেও বিশ্বকাপে আর খেলবেন না নিশ্চিতভাবেই।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলন করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদকর্মীরা তুমুল করতালিতে অভিবাদন জানান রোনালদোকে।
গত তিন বছরে পর্তুগালের কোচ হিসেবে রোনালদো থেকে দেখেছেন মার্তিনেস। তার নিজেরও দায়িত্ব শেষ হচ্ছে এই বিশ্বকাপ দিয়েই। নিজের বিদায়বেলায় তিনি ফুটিয়ে তুলের চেষ্টা করলেন রোনালদোর বিশালত্ব।
“এই বিশ্বকাপে সে যা করার চেষ্টা করেছে, সেজন্য আমরা চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব। স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ জেতা এবং অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্বের এক অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সেই চেষ্টা সে করেছিল।
এখন আমরা যা নিয়ে কথা বলছি তার বাইরে তাকানোর সময় নয়: সে একজন ফুটবল আইকন। ফুটবলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো খুব বেশি কেউ নেই।”
বিশ্বকাপে রোনালদোর সেরা পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক। আট বছর পর সেই প্রতিপক্ষের সঙ্গে টিকে থাকার লড়াইয়ে তিনি ছিলেন ম্রিয়মান। তবে ফুটবল ইতিহাসে তিনি কতটা উজ্জ্বল, তা তুলে ধরলেন বললেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
“তার মূল্যবোধ, তার আদর্শ এবং খেলাধুলার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং সব মিলিয়ে তার একজন বড় ভক্ত আমি এবং তাকে মনে করি তরুণদের জন্য একজন আদর্শ।
“যখনই আমাদের একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ হয়, আমরা একে অপরের প্রতি আমাদের পারস্পরিক মুগ্ধতার কথা জানাই এবং তাকে জানতে পারার যে গর্ব, তা বলে থাকি।”