Published : 07 Jul 2026, 02:11 PM
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘উসকানিমূলক বক্তব্যের’ বিষয়টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতে বসে তারা (আওয়ামী লীগ নেতারা) যে কাজটা করছেন, রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে আমরা এটা নিয়ে আগেও আমাদের সরকার থেকে কথা বলা হয়েছে, এটা বলা হবে। কারণ এদের অনেকেই মামলার আসামি আছেন, এদের অনেকের নামেই ওয়ারেন্ট আছে, কারো কারো নামে সাজা হয়ে গেছে।
"কথা বলা দূরে থাকুক, তাদেরকে তো আমাদের কাছে হস্তান্তর করারই কথা আছে। আমরা সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই কথা নিয়মিতভাবে বলা হচ্ছে, আমরা সেটা চালিয়ে যাব।"
সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এসে কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তুরাগে কী ঘটেছিল?
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের সময় ধাওয়া দিলে ঢাকার অদূরে তুরাগ নদীতে ডুবে নিখোঁজের অভিযোগ এবং পরবর্তীতে ওই নদীতে একাধিক মরদেহ উদ্ধার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা নিয়েও ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
সরকার এই বিষয়টি পরিষ্কার করছে না কেন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, "ওখানে কিছু মৃত্যু হয়েছে। খুবই আনএক্সপেক্টেড, আমরা প্রায় বলি যেটা হতে পারে না, এটা হওয়া উচিত না। কিন্তু আপনারা জানেন ঘটনাগুলো কীভাবে হয়েছে। সরকারের যে স্বাভাবিক কাজ, সরকার এগুলো তদন্ত করবে এর সাথে কেউ জড়িত আছে কী না।
"কিন্তু আপনারা দেখেছেন ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টও আছে দেশীয় এবং দেশের বাইরের সংস্থারও রিপোর্ট আছে, যেখানে ক্লিয়ারলি দেখা গেছে আসলে তারা পালাতে গিয়েছিলেন এবং সে ধরনের পরিস্থিতিতেই এটা হয়েছে।"
গেল মাসের শেষে তুরাগ নদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ ভাসছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলে। এরপর পুলিশ সদর দপ্তরের এক বার্তায় এমন খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করা হয়। ‘মিথ্যা অপপ্রচারে’ বিভ্রান্ত না হতেও সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তারা।
পরে ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন দাবি করেছেন, ঢাকার অদূরে সাভার ও আশুলিয়ায় তুরাগ নদ থেকে দুইজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট নেই।
আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, "আবারও, আমরা দুঃখজনক মনে করি। আওয়ামী লীগ যারা এখনো করেন, এখনো যারা আওয়ামী লীগের মিছিল করতে আসেন, আমি খুব দুঃখ পাই, আমি সত্যিই দুঃখ পাই, কিন্তু তাদের জীবনও মূল্যবান। তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এটাও আমরা বিশ্বাস করি। এবং প্রত্যেকের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাতে চাই-রাষ্ট্রের আইন যেন তারা মেনে চলেন।"
আওয়ামী লীগ ‘নিষিদ্ধ হয়নি’ জানিয়ে জাহেদ বলেন, “তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আমাদের আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে।
"যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারও বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, তিনি (বিচারক) সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।"