Published : 06 Jul 2026, 11:45 PM
সিলেটে হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে দানের অর্থের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে জেলা প্রশাসক বদল হলেও নতুন দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তা আট দিন পরও সেখানে যোগ দেননি।
নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে মু. রেজা হাসান তার আগের কর্মস্থল কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন ১ জুলাই।
সোমবার পর্যন্ত তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে যোগ দেননি বলে জানা গেছে।
এদিন সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওইদিন (১ জুলাই) ডিসি স্যার কুমিল্লা দায়িত্ব হস্তান্তর করে সিলেটে আসবেন- এমন কথা হয়েছিল। পরে স্যার আসেননি; এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আর কোনো নির্দেশনা পাইনি বা স্যারের সাথেও আর কথা হয়নি।”
কুমিল্লার নতুন ডিসি রোজী আকতার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিনি আগের ডিসি রেজা হাসানের কাছ থেকে ১ জুলাই দায়িত্ব বুঝে নিয়ে সেদিনই যোগ দিয়েছেন।
গত ২১ জুন সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।
মাজারের দান বাক্সের অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের মধ্যে তার বদলির আদেশ আলোচনা তৈরি করে। এ নিয়ে তার পক্ষে মানববন্ধন এবং পাল্টাপাল্টি বিবৃতিও দেওয়া হয়।
ডিসি সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসন মাজারে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করে। সেই সঙ্গে মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ‘ডেগ’ সিলগালা করা হয়, ‘নিরাপত্তার জন্য’ মোতায়েন করা হয় আনসার সদস্য; যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাজার ভক্তরা।
এর চার দিনের মাথায় সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।
সারওয়ারকে বদলির এক সপ্তাহ পর ২৮ জুন কুমিল্লার ডিসি রেজা হাসানকে সিলেটের ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়। তবে সোমবার পর্যন্ত তিনি যোগ দেননি।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানকে মোবাইল ফোনে কল করলেও ধরেননি তিনি। এসএমএস করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব মো. মাসুদ রানা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
এরই মধ্যে গত বুধবার সিলেটে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হয়ে তিনি ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ফিরে এসেছেন বলে খবর প্রকাশ হয়।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন ফেইসবুকে বা কোথায় কি আলোচনা হচ্ছে সেটা তো আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা তার পরেও বিষয়গুলো নজরে রাখছি।
“কোন জেলা খালি হলে নতুন পদায়ন হবে এবং যোগদান করবে এটা রুটিন কাজ। সেটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রতিপালন করেন।"
যোগদান করতে গিয়ে ফিরে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, “কে বিমানবন্দরে গেল বা কে গেল না- সেটা দেখার বিষয় না। বদলি হবে, যোগদান করবে এটা স্বাভাবিক বিষয়, এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না।”
এ বিষয়ে কথা বলতে দু-দিন ধরে জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হককে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। এসএমএস দিয়েও সাড়া মেলেনি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের (এপিডি) মো. আকনুর রহমান ফোন ধরলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিলেটজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বদলির আদেশের ৯ দিন পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত সচিব এবং বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সাবেক রেক্টর এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, “অতীতের এমন ঘটনা অহরহ হয়েছে। অনেক জেলায় মাসের পর মাস ডিসি যোগদান করেননি। এখানে যেহেতু আরেকজন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সুতরাং সমস্যা দেখছি না। এটা সরকার করতে পারে বা কর্মকর্তা নিজের সুবিধামত সময়ে যোগদান করতে পারে।”