Published : 06 Jul 2026, 11:03 PM
সাভারে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।
সোমবার রাত পৌনে ১০টায় সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
এ সময় মঞ্চে এনসিপি আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, এনসিপি সদস্যসচিব সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এনসিপি ঢাকা জেলার আয়োজনে সোমবার রাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘জুলাই পদযাত্রা অনুষ্ঠান ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এনসিপির ঢাকা জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিমের বক্তব্য চলাকালীন সময়ে হঠাৎ বিকট শব্দে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।
হাতবোমা বিস্ফোরণের পর পরই এনসিপি নেতাকর্মী-সমর্থক এবং মঞ্চের সামনে থাকা লোকজন আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। তারা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।
ঘটনাস্থলে তাকা এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত সাংবাদিকদের বলেন, আহত তিনজন হলেন- শাহীন খন্দকার (৩০), জসীম উদ্দিন (২৬) এবং মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন (৪০)।
এদের মধ্যে গুরুতর আহত এনসিপি কর্মী শাহীন খন্দকারকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বোমা বিস্ফোরণের পর নেতাকর্মীরা আবার একত্রিত হন। তখন তারা নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রশাসনের উপস্থিতিতে হাতবোমা হামলার বিচার দাবিতে মিছিল নিয়ে সাভার মডেল থানা সামনে গিয়ে জড়ো হন।
পরে সেখান থেকে নাহিদ ইসলাম ও এনসিপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে যান আহতদের দেখতে।
এ ব্যাপারে জানতে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদের মোবাইলে ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
এনসিপি নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা গাজীপুরের কালীগঞ্জে অনুষ্ঠান শেষ করে রাত ৯টার দিকে সাভারে প্রবেশ করেন। তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে পদযাত্রা করে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন।
নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসার মুহূর্তেই সেখানে বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠেন। তারপর সভা শুরু হয়। সভাটি পরিচালনা করছিলেন সার্জিস আলম। প্রথমে সাভারের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। তাদের পরে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন এনসিপির হয়ে ধামরাই থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নাবিলা তাসনিম।
মঞ্চের সামনে জায়গাটিতে ছিলেন সাংবাদিকরা। তার পরে বাঁশ ঘেরা দেওয়া জায়গায় সাধারণ মানুষের বসার জন্য চেয়ার দেওয়া হয়। নাবিলা তাসনিমের বক্তব্যের মধ্যেই বাঁশ ঘেরা জায়গাটিতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দ হয় এবং তখন ধোঁয়াও ওঠে। এর একটু পরেই বিদ্যুৎও চলে আসে।
নাহিদ ইসলাম তখন তড়িঘড়ি করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনিও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টির সমালোচনা করে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
বিস্ফোরণের পেছনে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ দেখছেন নাহিদ ইসলাম
ঘটনার পর রাত ১১টার দিকে সাভার মডেল থানা প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তার ভাষ্য, “এটার পেছনে রাজনৈতিক একটা উদ্দেশ্য আছে।
“পুলিশকে যদি দলীয়করণ করা হয়, পুলিশ এ ধরনের ঘটনায় আমাদের রক্ষা করতে পারবে না। কারণ পুলিশ রাজনৈতিক নির্দেশে তখন কাজটা করবে। এখন পুলিশ যদি গ্রেপ্তার করতে পারে, তবে বুঝব পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। পুলিশ বলছে, তাদের ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারছে কিনা, এটার ওপরেই পরিষ্কার হয়ে যাবে, পুলিশ বাংলাদেশে আসলে কতটা সুরক্ষা দিতে পারে। আমরা দেখেছি, পুলিশ উপস্থিত ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর পুলিশের আমরা কোনো সক্রিয়তা দেখিনি।
“বোমা হামলার পরে কিছু পুলিশ এসেছিল, আমাদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। কিছু পুলিশ চলে গেছে। তারা বলছে, চেষ্টা আছে।”
থানা প্রাঙ্গণে নাহিদের সঙ্গে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিমও ছিলেন।