Published : 08 Jul 2026, 11:16 PM
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সমাবেশ চলাকালে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার একদিন পরও এলাকায় মানুষের মধ্যে ভীতি রয়ে গেছে। তারাপুর ঈদ মাঠসংলগ্ন এলাকায় থমথমে ভাব দেখা গেছে।
বুধবার সকালে সাভারের ব্যস্ততম ওই এলাকায় গিয়ে আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।
বোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি নিয়ে কেউ কথা বলতে চান না। তারা ‘ঝামেলা এড়িয়ে’ থাকতে চান।
আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও ঘটনাস্থলে থমথমে পরিবেশ ছিল। অথচ এই মাঠে সব সময় ছোট-বড় সবারই আনাগোনা থাকত। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে এই মাঠের পাশে খেলনা, জামা-কাপড়, খাবারের দোকানসহ ২০ থেকে ২৫টি ভ্রাম্যমাণ দোকান বসে। কিন্তু ঘটনার পর থেকে কেউ আর এখানে আসছে না।
সোমবার রাত ৯টার দিকে শুরু হওয়া এনসিপির সমাবেশের আগ মুহূর্ত থেকে সভাস্থলে বিদ্যুৎ ছিল না। রাত পৌনে ১০টার দিকে সেখানে বোমা বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই বিদ্যুৎ চলে আসে।
বিষয়টি নিয়ে এনসিপি নেতারা প্রশ্নও তুলেছেন। এর জবাবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ঘটনাটিকে ‘কাকতালীয়’ বলছে। তবে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বিদ্যুৎ সংস্থাটি ঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও করেছে।
পুলিশও ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে। এনসিপি সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে কেন তিন ঘণ্টা রাত ৯টায় সভা শুরু করল- সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; যাদের যুবলীগের কর্মী বলে দাবি করেছে পুলিশ। অপরদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে।
যা ঘটেছিল সেদিন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এনসিপি দেশজুড়ে মাসব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও সমাবেশ করছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় সাভারে এনসিপি ঢাকা জেলা কমিটির আয়োজনে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এজন্য কয়েকদিন আগ থেকে প্রচারও চালানো হয়।
সন্ধ্যায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলমরা সাভারে পৌঁছায় প্রায় পৌনে ৯টার দিকে। এদিন তারা গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলারও একই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখান থেকে ফিরতে ফিরতে তাদের রাত হয়ে যায় বলে তখন এনসিপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছিলেন।
এদিন রাত ৯টার দিকে থানা রোডের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে এনসিপির নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুনসহ ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু করেন। পদযাত্রাটি প্রায় ২০০ মিটার দূরে তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এসে শেষ হয়। সেই মাঠেই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সার্জিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তেই হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। তখন জেনারেটরের সাহায্যে সমাবেশ চলতে থাকে। সার্জিস আলমের সঞ্চালনায় প্রথমে স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তব্যের দেওয়ার ধারাবাহিকতায় এনসিপির ঢাকা জেলার আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিম বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তখন রাত ৯টা ৪২ মিনিট। এ সময় হঠাৎ করেই মঞ্চের ১৫-২০ ফুট সামনে বিকট শব্দে একটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটে।
মুহূর্তের মধ্যে জায়গাটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ভয় ও আতঙ্কে মাঠে চেয়ারে বসে থাকা নেতাকর্মীরা উঠে পড়েন। কেউ কেউ একটু দূরে সরে যান। চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। সভাস্থলে পুলিশ থাকলেও ঠিক এই মহূর্তটিতে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেছেন।
এরই মধ্যে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। তাকে কয়েকজন ধরাধরি করে কাছের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে যেতে দেখা যায়। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চ থেকে মাইকে সবাইকে শান্ত হয়ে বসার পরামর্শ দেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত সাংবাদিকদের বলেন, আহত তিনজন হলেন- শাহীন খন্দকার (৩০), জসীম উদ্দিন (২৬) এবং মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন (৪০)। এদের মধ্যে গুরুতর এনসিপি কর্মী শাহীন খন্দকারকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রাথমিক বিহ্বলতা কাটিয়ে নেতাকর্মীরা আবারও মাঠে মঞ্চের সামনে জড়ো হন। তখন তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এ সময় তিনি বলেন, “আমার ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হল সাভার। এই সাভার থেকেই প্রয়োজনে আরেকটি ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করব। এখানে বিদ্যুৎ বন্ধ করে, ককটেল ফাটিয়ে এনসিপির পদযাত্রা বন্ধ করতে চেয়েছিল।
“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জবাব দিতে হবে। তারা এখানে সমাবেশে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই। আমাদের যত বাধাই আসুক এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ চলমান থাকবে।”
পরে মাঠ থেকে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সাভার থানায় উপস্থিত হন এবং সেখানে বিক্ষোভ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান
তারাপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠটির বেশ বড়। মাঠের উত্তর পাশে ছোট আকারের একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। মঞ্চের সামনে কিছুটা ফাঁকা জায়গা; সেখানে সংবাদমাধ্যমের কর্মী ও ইউটিউবাররা ছিলেন। কেউ ভিডিও করছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন।
তারপরই বাঁশ দিয়ে ঘেরা একটি অংশ। এটা মঞ্চ থেকে ১০ থেকে ১২ ফুট দূরত্বের হতে পারে। সেখানে সারি সারি চেয়ার পেতে দেওয়া হয় নেতাকর্মীদের জন্য।
মাঠের পাশ দিয়ে সারি সারি করে রাখা ছিল ভ্রাম্যমাণ খাবার, খেলনা এবং প্রসাধন সামগ্রীর দোকান। প্রতিদিন বিকাল হলে এমনিতেই মাঠ সরগরম থাকে এসব দোকানের কারণে। ওই দিন লোকজন আরো বেশি ছিল এনসিপির সমাবেশের কারণে।

নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের মঞ্চের পিছনে উত্তর পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন অনেকেই। কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মাঠের দক্ষিণ পাশেও অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাভার প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা বলেন, “আমি বক্তব্য ভিডিও করার সময় পিছনে বাঁশের ঘেরা অংশে হঠাৎ হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটে। তখন আমিও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি। লোকজন এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে দেখি। দুইজনকে হাসপাতালে নিতে দেখেছি।
“বিস্ফোরিত স্থানে একটি রক্ত মাখা স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেছি। হয়ত আহত কারো সেন্ডেল হবে। বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। সাভার মডেল থানার এসআই নিয়ামত ঘটনাস্থলে এসে বিস্ফারিত হাত বোমার আলামত নিয়ে যান।”
বিস্ফোরণের পর মাঠ ও আশপাশে কাউকে দৌড়ে যেতে দেখেছেন কিনা- এমন প্রশ্ন মাঠের আশপাশের বেশ কয়েকজনকে করা হলে তারা সেরকম কিছু দেখেননি বলেও জানান।
‘শর্ট সার্কিটে বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল’
সোমবার সন্ধ্যায় পল্লী বিদ্যুতের গেণ্ডা উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। ওইদিন কোনো লোডশেডিং না থাকায় ওই উপকেন্দ্রের সব ফিডার চালু ছিল।
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর মহাব্যবস্থাপক মো. মামুন অর রশীদ বলেন, “এনসিপি সমাবেশ যে করবে এজন্য বিদ্যুৎ কার্যালয়কে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য মৌখিক কিংবা লিখিত কোনো আবেদন করা হয়নি। তাদের সমাবেশস্থলে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া কাকতালীয় ব্যাপার ছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ বিদ্যুৎ বন্ধ করেনি।
“যারা মঞ্চ তৈরি করেছেন, সেই ডেকোরেটররা মঞ্চের পাশের ৪ নম্বর ফিডার থেকে হুক লাগিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়েছিলেন।”
মামুন অর রশিদ বলেন, “রাত ৯টা ২০ মিনিটে ৪ নম্বর ফিডার হঠাৎ ট্রিপ করে। ট্রিপিং এর সময় ফিডারের এসিআরে ৩৩৯৭ অ্যাম্পিয়ার ফেজ টু গ্রাউন্ড ফল্ট কারেন্ট প্রদর্শন করে। তাৎক্ষণিকভাবে ফিডার ফল্টের কারণ অনুসন্ধান করতে থাকা হয়।
“এ অবস্থায় ভাগলপুর মহল্লা থেকে মো. শরিফুজ্জামান অভিযোগ কেন্দ্রের মোবাইলে ফোন করে জানান যে, তার নিকটবর্তী স্থাপনায় স্থাপিত ট্রান্সফরমারের বিকট শব্দ ও ফায়ারিং হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে।
“পরে ডিউটিরত লাইনম্যান গ্রেড-১ মো. কামরুজ্জামান ফিডারটি ট্রায়াল দিলে রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে ফিডারটি অস্থায়ী ফল্ট রিমুভ হয়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে চালু হয়ে যায় এবং গ্রাহক বিদ্যুৎ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।
“পরবর্তীতে জানা যায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকাকালীন সময়ে উক্ত ফিডারের আওতায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে অবস্থিত একটি খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এনসিপির একটি প্রোগ্রামে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে।”
পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপক বলেন, বিদ্যুৎ বন্ধের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য ট্যানারি জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. হেমায়েত হোসেন বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী প্রকৌশলী (এসওডি) ঢাকা (উত্তর) মজিবুর রহমান ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক (আইটি-১) সদর দপ্তরের মুহাম্মদ সাদ আল মুনির। কমিটিকে দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মামুন অর রশিদ বলেন, এনসিপির নেতারা মঞ্চে ওঠার আগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া ও বোমা বিস্ফোরণের পরপরই বিদ্যুৎ ফিরে আসা একটা কাকতালীয় বিষয় ছিল।”
এই কারণেই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এবং ঘটনার পর তিনি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটা প্রাথমিক প্রতিবেদন পাঠায়েছেন বলে জানান।
পল্লী বিদ্যুতের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. হেমায়েত হোসেন বিশ্বাস বলেন, “আজই (বুধবার) আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।”
আধা কিলোমিটার দূরে ভাগলপুর মহল্লায় ট্রান্সফরমার ফায়ারিং হয়ে তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শর্ট সার্কিট হলে ওই ফিডারের অধীনে যত লাইন আছে সবই বন্ধ হয়ে যাবে।”
‘নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়’
এনসিপির ঢাকা জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও মামলার বাদী মো. সালামত উল্লাহ রনি বলেন, “আমাদের এই প্রোগ্রামের বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। এখন বাকি বিষয় তো প্রশাসন দেখবে। তবে বিদ্যুৎ যখন চলে যায় সঙ্গে সঙ্গে আমরা পল্লী বিদ্যুতের অফিসের অভিযোগ নম্বরে একাধিকবার কল করেছি কিন্তু কেউ রিসিভ করেননি।”
যুবলীগের দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, “গতকালকে (মঙ্গলবার) থানায় গিয়ে পুলিশ পরিদর্শক নূর মোহাম্মদকে বলে এসেছি, নিরীহ কাউকে যেন এই মামলায় হয়রানি করা না হয়। প্রকৃত অপরাধী যে দলেরই হোক শুধু তাদেরকেই যেন ধরা হয়।”
ঘটনার দিন রাতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঘটা মানেই পুলিশের ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা। আমরা মনে করছি, আইনশৃঙ্খলা জনিত থেকেও এটার পেছনে রাজনৈতিক একটা উদ্দেশ্য আছে।”

তিনি বলেন, “পুলিশকে যদি দলীয়করণ করা হয়, পুলিশ এই ধরনের ঘটনায় আমাদের প্রটেক্ট (রক্ষা) করতে পারবে না। কারণ পুলিশ রাজনৈতিক নির্দেশে তখন কাজটা করবে। এখন পুলিশ যদি গ্রেপ্তার করতে পারে, তবে বুঝবো পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। পুলিশ বলছে, তাদের ইচ্ছা ছিল কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।”
প্রশাসনের বক্তব্য ও তদন্ত কমিটি
ঘটনার পরপরই সাভার থানা পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশ তারাপুর ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করে। গভীর রাতে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনার তদন্তের জন্য ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান ও সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ।
পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, সমাবেশ চলার সময় কেন বিদ্যুৎ গেল, কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে- এসব বিষয় নিয়েই তদন্ত করা হবে। ঘটনায় যারা জড়িত তাদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।
“এনসিপি নেতারা আমাদের কাছ থেকে একটা লিখিত অনুমতি নিয়েছিলেন সন্ধ্যা ৬টায় সমাবেশ হবে। কিন্তু তারা এত দেরি করে রাত পৌনে ৯টায় কেন সমাবেশ শুরু করলেন সে বিষয়টিও আমরা দেখছি।”
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ঘটনার রাতেই অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলায় নুরুল ইসলাম ও সজীব নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে।
আবার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সপ্তম তলার ৭১২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন আছেন বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত শাহীন খন্দকার। তিনি এক ইউটিউবারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, তিনি জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী। এনসিপি দলকে পছন্দ করেন বিধায় সেদিন সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন।
শাহীন খন্দকারের বক্তব্য নিয়েও নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে ফেইসবুকে।
আরও পড়ুন:
সাভারে এনসিপির সভায় বিস্ফোরণ: অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত কমিটি
সাভারে নাহিদ-আখতারের উপস্থিতিতে সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ, আহত ৩
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জাতির সঙ্গে বেইমানি করছে: নাহিদ