Published : 09 Jul 2026, 12:14 AM
দেড়শ জন কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া ও বরখাস্তদের মধ্যে স্বাভাবিক অবসর বা পদোন্নতি না পাওয়া কর্মকর্তাদের কাছে আবার আবেদন চাওয়া হয়েছে।
এসব আবেদন যাচাই বাছাইয়ে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে সভাপতি করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আগ্রহীদের আগামী ১০ অগাস্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদর দপ্তরে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
আবেদন পর্যালোচনা সাপেক্ষে কমিটিকে আগামী ১ ডিসেম্বর মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) কাছে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
চব্বিশের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট পর্যন্ত সময়ে যারা তিন বাহিনীতে ‘বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন’ তারা আবেদন করতে পারবেন বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
এ প্রক্রিয়ার বিষয়ে অবহিত মন্ত্রণালয়ের এমন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রজ্ঞাপন হওয়ার তথ্য দিয়েছেন। তবে বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি।
এর আগে গত ১ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ ১৫০ জন কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসরে যাওয়ার ও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়।
ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়া ওই কর্মকর্তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেদিনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল।
এর এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে ‘বঞ্চিতদের’ কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু ইউসুফ মো. রেজাউর রহমানের সই করা এ বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট পর্যন্ত সময়কালে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর চাকরিতে ‘বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার’ শিকার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্ত হওয়া (চাকুরিচ্যুত) কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা পূর্বে বাহিনীর সদর দপ্তরের গঠিত পর্ষদ বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত কমিটির নিকট আবেদন দাখিল করেননি তারা আবেদন করতে পারবেন।
একই সঙ্গে যাদের আগের আবেদন বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি তারাও আবেদন করতে পারবেন।
এজন্য গঠিত সাত সদস্যের কমিটি আগে পাঠানো আবেদনগুলো বিস্তারিত পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করবে।
সেনাবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেলের নেতৃত্বে গঠন করা এ কমিটিতে আরও রয়েছেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল, নৌবাহিনীর একজন রিয়ার এডমিরাল, বিমান বাহিনীর একজন এয়ার ভাইস মার্শাল, অতিরিক্ত মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।
সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির সভাপতি আবশ্যক মনে করলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিতে পারবেন বলে বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
এর আগে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ‘বঞ্চনার শিকার’ হয়েছেন এমন সেনা কর্মকর্তাদের বিষয়টি বিবেচনার জন্য বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করা হয়। সেখানে হাজারের বেশি সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য আবেদন করেছিলেন বলে খবরে এসেছে।
কমিটির কাজের আওতা
>> কমিটি সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদর দপ্তরে দাখিল করা আবেদনগুলো পাওয়ার পর সেগুলোর মধ্য থেকে নতুন আবেদন যাচাই করবে। আগে বাহিনীর সদর দপ্তরের গঠিত পর্ষদগুলোতে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠন করা কমিটিতে পাঠানো আবেদনগুলোর মধ্যে যেগুলো বিবেচনা করা সম্ভবপর হয়নি সেগুলো চিহ্নিত করবে এবং মানবিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সমাধানের জন্য সুপারিশ দেবে।
>> কমিটি সুপারিশ দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেবে এবং দাখিল করা দালিলিক সব তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করে বিবেচনা করবে।
>> কমিটি শুধু ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট পর্যন্ত সময়কালীন ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত আবেদনগুলো বিবেচনা করবে।
আরও পড়ুন
আযমীসহ ১৫০ সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, স্বাভাবিক অবসর