Published : 09 Jul 2026, 12:01 AM
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নেতাকর্মীরা বলেন, বুধবার বিকালে রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে সভাপতি পদপ্রার্থী আবুল কালাম মিয়া ও মো. বিশু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। সুতালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
উপজেলার কদমী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম মিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং কাটাগর গ্রামের বাসিন্দা বিশু মেল্লা উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিকাল ৩টায় সম্মেলন শুরুর আগে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি এবং এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন সামান্য আহত হয়। এ সময় চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
বিএনপি নেতা মো. বিশু মোল্লা বলেন, “সম্মেলন বিদ্যালয়ের কক্ষে হয়েছে। বাইরে পোলাপান পোলাপান মারামারি করেছে। কালাম মিয়া অন্য ইউনিয়ন থেকে তার সমর্থকদের এনেছিল। তারা এই এলাকার লোকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করায় মারামারি হয়েছে।”
কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি দাবি করে কালাম মিয়া বলেন, “যারা ঝামেলা করেছে তারা বাজে ছেলে। সম্মেলন সম্পূর্ণ সফলভাবে শেষ হয়েছে।”
পরে উপস্থিত নেতারা উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের শান্ত করলে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন শেষ হয়।
সম্মেলনে অতিথি ছিলেন কৃষক দলের সহসভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা বলেন, “সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতি হয়। খুব বড় ধরনের কিছু না। পরে শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।”
তবে সম্মেলন শেষে কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। সম্মেলনে যারা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন তাদের বক্তব্য নেতৃবৃন্দ শুনেছেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “একটি বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে এগুলো থাকবেই, এটাকে আমরা প্রতিযোগিতা মনে করি।”
তিনি বলেন, বোয়ালমারীর একটি পৌরসভা ও ১০ ইউনিয়নের কমিটি একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে।