Published : 09 Jul 2026, 12:10 AM
অতি ভারি বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও পাহাড় ধসে প্রাণহানি–সব মিলিয়ে দুর্ভোগ-দুর্দশার আরেকটি দিন কাটল চট্টগ্রামবাসীর।
বন্দরনগরীতে টানা চারদিন ধরে চলছে অতি ভারি বর্ষণ। গত ৭২ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে মোট ৭৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বুধবার সকাল থেকে নগরীর নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করে।
দুপুরে নগরীর বেশিরভাগ এলাকা ছিল জলমগ্ন। কোথাও কোথাও কোমর সমান পানি ছিল। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও তলিয়ে যায়। বিকেলেও বেশিরভাগ এলাকা থেকে পানি সরেনি।
এরমধ্যে পাহাড় ধসে দুই দিনে দুজন শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপনকারীদের সরে যেতে বলেছে প্রশাসন। কয়েকটি পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নগরীর বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষাও হয়নি।
ষোলশহর এলাকায় রেললাইনে পানি জমে দুদিন ধরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথের রেল চলাচল বন্ধ আছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন না চালানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নগরীর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, জিইসি, ওয়াসা, মৌলভী পুকুর পাড়, বড় দীঘির পাড় ও জাকির হোসেন রোডসহ বেশ কিছু এলাকার প্রধান সড়ক বুধবার ছিল পানির নিচে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের ছয়টি উপজেলায় ২৯ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ২৭২ জনকে।

নতুন এলাকা ডুবল
মঙ্গলবার যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা ছিল, তার বাইরেও বুধবার আরো নতুন অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
নগরীর লালদীঘির পাড়, মেহেদীবাগ সিডিএ আবাসিক এলাকা, প্রবর্তক মোড়, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড়, জাকির হোসেন রোডের ইস্পাহানি গেট এলাকা, মোহাম্মদপুর, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, পাঠানটুলি রোড, ইপিজেড মোড়, বহদ্দারহাটসহ নতুন আরো কিছু এলাকা এদিন পানিতে তলিয়ে যায়।
এছাড়া আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, বেপারী পাড়া, শান্তিবাগ আবাসিক এলাকা, হালিশহর আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সড়ক, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, চকবাজার, শুলকবহর, ষোলশহরের শমসের পাড়া, বড় দিঘীর পাড়ের মূল সড়ক, আরাকান সড়কের মৌলভী পুকুর পাড়, পাঁচলাইশ, তিন পোলের মাথা ও এনায়েত বাজার এলাকা দ্বিতীয় দিনের মত ছিল জলাবদ্ধ।
পাশাপাশি নগরীর এক প্রান্তের দক্ষিণ পতেঙ্গার নাজির পাড়া ও মাইজপাড়া, ঈদগাঁও, বন্দর আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বুধবার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
ধনিয়ালা পাড়ার বাসিন্দা মো. আলমগীর চৌধুরী আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বিপরীতে তৌফিক টাওয়ারের একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন।

বুধবারের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাসা থেকে বেরিয়ে সড়কে দেখি হাঁটু সমান পানি। সেই পানি ঠেলে বহু কষ্টে অফিসে পৌঁছাই। কিন্তু গত দুই দিন ধরে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এক রকম স্থবির হয়ে পড়েছে।
“কোথাও কোমর সমান, আবার কোথাও হাঁটু পানি ঠেলে মানুষ আসতে পারছে না। কমার্স কলেজ রোডের নালাটি সড়কের চেয়ে উঁচু। তাই পানি নামতে পারে না। রাস্তা উঁচু করতে হবে এবং নালা প্রশস্ত করতে হবে। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় দিনের পর দিন জলাবদ্ধতার এমন ভোগান্তি চলতে পারে না।”
চকবাজার আধুনিক চক সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, “এত পানি উঠেছে যে দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। কিছুদিন আগে মাত্র দোকানে নতুন করে কয়েক লাখ টাকার মালামাল তুলেছি। পানিতে বেশিরভাগই হয়ত নষ্ট হয়ে গেছে। দোকান খোলার পর বুঝতে পারব কতটুকু রক্ষা পেয়েছে।”
হালিশহর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মো. মামুন হোসেন বলেন, “গতকাল থেকে এলাকায় পানি। এমনকি মেইন রোডেও পানি। রিকশা ছাড়া কিছুই চলছে না। রিকশায় করে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। তবু চাকরির জন্য যেতে হচ্ছে। এভাবে ঝুঁকি নিয়েই এই শহরের মানুষ বছরের পর বছর পার করছে।”
দক্ষিণ পতেঙ্গার মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা পোশাক কারখানার কর্মী শাহনুর আক্তার বলেন, “এখানে আগে কখনো পানি দেখিনি। বাসায় পানি ঢুকে গেছে। কাজে না গেলে বেতন কেটে রাখে। কিন্তু আজকে কাজে যাবার কোন উপায় নেই।”
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২০৬ মিলিমিটার, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৪ মিলিমিটার এবং বুধবার একই সময় পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

মুক্তি কোন পথে?
গত সোমবার রাত থেকে যেখানেই জলাবদ্ধতার খবর পাচ্ছেন, সেখানেই ছুটে যাচ্ছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
বুধবার দুপুরে চশমা হিলে পাহাড় ধসের পর সেখানে যান মেয়র। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “গত ৪৫ বছরের ইতিহাসে চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত এবং টানা তিন দিনে প্রায় ৬৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের মত নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এটি একটি মানবিক দুর্যোগ।
“এই মুহূর্তে কোনো ধরনের রাজনীতি না করে, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। মানুষের জীবন রক্ষা করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
এর আগে সকালে নগরীর ষোলশহর শমসের পাড়ায় পরিদর্শন শেষে জলাবদ্ধতা বিষয়ে করণীয় জানতে চাইলে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা চলতে থাকবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেটে যাবার পর নিচু জায়গাগুলোতে আবার কাজ করব।
“চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও আর্মি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর কাজ করছে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আশা করি এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব।”
বুধবার সকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সঙ্গে প্রকল্পের পূর্ত কাজ পরিচালনাকারী সেনাবাহিনী ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রতিনিধি দলের সভা হয়।

সভায় চট্টগ্রাম নগরীর চলমান জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি, তাৎক্ষণিক করণীয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকটি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৩৯টি রেগুলেটর সার্বক্ষণিক সচল রাখার উপর জোর দেওয়া হয়।
সভা শেষে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, “স্মরণকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়া নগরবাসীর প্রতি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।
“পরিদর্শনকালে খালের পানি প্রবাহ গতিশীল দেখলেও খালগুলো সংযোগকারী নালাগুলোতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে পানি রাস্তায় উপচে আসতে দেখেছি।”
প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে নাগরিকদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তা যতটা সম্ভব লাঘব করতে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তিনি বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, “জলাবদ্ধতা প্রকল্পে যতটুকু কাজ হয়েছে তার ৯০ শতাংশ সুফল মিলেছে। কিন্তু যে পরিস্থিতি হয়েছে, সেটা মোকাবেলা করতে পারেনি।
“জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রকল্পের বাইরে থাকা শহরের ৭০ শতাংশ খাল ও ৬০ শতাংশ ড্রেনেজ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে প্রস্তাবিত জলাধারগুলো নির্মাণ করতে হবে।”
যেসব পাম্প এখন পর্যন্ত বসানো হয়েছে, সেগুলোর সক্ষমতা এবং এবার আদৌ সেগুলো কার্যকর ছিল কিনা সেই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “আমাদের সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি ড্রেনগুলো এই প্রকল্পে নেই। ফলে স্থানীয়ভাবে পানি নামতে না পেরেও নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
“প্রকল্প শেষে খালগুলো সিটি করপোরেশনকে দিলেও তাদের ব্যবস্থাপনার সেই সক্ষমতা, যন্ত্রপাতি, টাকা ও মেনুয়াল নেই। এসব না দিলে দুই বছরের মধ্যে ১৪ হাজার কোটি টাকার চলমান একাধিক প্রকল্পের সুফল ধংস হয়ে যাবে।”

পাহাড় ধসে মৃত্যু থামবে কীভাবে?
গত আড়াই দশক ধরে প্রায় প্রতি বছরই বন্দর নগরীতে বর্ষায় ভারি বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এবার আবহাওয়া অফিস ভারি বর্ষণের আভাস দেওয়ার পর সোমবার থেকে পাহাড়ের বাসিন্দাদের সরাতে মাইকিং শুরু করে প্রশাসন।
মঙ্গলবার থেকে পাহাড়ের বাসিন্দাদের সরাতে তোড়জোড় শুরু হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার ও বুধবার নগরী এবং সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় ধসে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।
বুধবার দুপুরে পাঁচলাইশ থানার চশমা হিলে পাহাড় ধসে শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে মেয়র পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপনাকারীদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাবার আহ্বান জানান।
সেখানে পাহাড় ধসের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাহাড় কাটাকে দায়ী করে মেয়র বলেন, “অতীতে পাহাড় কাটার যে অরাজকতা চলেছে, তা বন্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এখানে এসে দেখেছি পাহাড় কাটা হয়েছে। পাহাড়টি স্বাভাবিকভাবে থাকার কথা থাকলেও সেটি কেটে প্রায় খাড়া করে ফেলা হয়েছে। এর ফলে পুরো এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”
তিনি বলেন, “শুধু আইন করলেই হবে না, আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আইন বাস্তবায়ন করা না যাবে, ততক্ষণ এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না।

“অতীতে যারা পাহাড় কেটেছে এবং যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চট্টগ্রাম শহর এবং সীতাকুণ্ড-হাটহাজারী অঞ্চলের পাহাড়গুলো ‘নরম, ক্ষয়প্রবণ এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল’।
চট্টগ্রাম শহরে ১৯৯৭ সাল থেকে পাহাড় ধসে আনুমানিক ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃতরা ছিলেন পাহাড়ের পাদদেশের বাসিন্দা।
অধ্যাপক অলক বলেন, “পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঠেকানোর সবচেয়ে বড় উপায় সরকারের হাতে। পাহাড় কাটা বন্ধে যত আইন আছে তা সরকারি সংস্থাগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে দিনে দিনে পাহাড় কাটা বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু তারা সবসময় এ বিষয়ে চোখ বন্ধ রাখে। অতীতে জনপ্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন হয়েছে।”

উপজেলাগুলোতেও বিপর্যয়
চার দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতেও বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ছয়টি উপজেলায় প্রায় ২৯ হাজার ৩৭৩ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে সন্দ্বীপ উপজেলায়। এছাড়া বাঁশখালীতে সাড়ে ছয় হাজার ও আনোয়ারায় দুই হাজার ২০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
“জেলায় আমরা মোট ৫৪০টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছি। সেখানে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৭২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সীতাকুণ্ডে ৪৮০ জন আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন।”
এছাড়া সীতাকুণ্ড উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামের মাঠের ফসল ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে এবং ফটিকছড়ি উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন আংশিক জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি হাটহাজারী, বোয়ালখালী, পটিয়া, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন লোকালয় জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ সতর্কবার্তায়, বুধবার বিকেল ৩টা থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সতর্কতা জারি করেছে।
পাশাপাশি অতি ভারি বৃষ্টির কারণে নগরীতে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমি ধসের সতর্কতাও জারি রাখা হয়েছে।