Published : 07 Jul 2026, 11:39 AM
চট্টগ্রাম নগরে ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছে, সেই সঙ্গে সকালের জোয়ারে কয়েকটি স্থানে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।
রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সোমবার অতি ভারি বর্ষণে রূপ নেয়। সোমবার দিনভর বৃষ্টির পর রাতেও চলেছে মুষলধারে।
সেদিন সন্ধ্যার পর নগরীর দুয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাতভর টানা ভারি বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকালেও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
এতে নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, হালিশহর কে ও এল ব্লক, রামপুর, তিন পোলের মাথা, বাটালি রোডসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। সড়কে রিকশা ছাড়া অন্য যানবাহনের সংখ্যা দেখা গেছে খুবই কম। নগরীর কয়েকটি স্কুলের ক্লাস ও পরীক্ষা ‘বৈরী আবহাওয়ার’ কারণে স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
সকালে কাতালগঞ্জ এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “গতকাল সকাল থেকে যে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে তা এখনো থামেনি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো শহর গতকাল থেকে ঘুরে দেখেছি।

“হিজরা খালের কাজ এখনো ৩০ শতাংশ বাকি। বাঁধগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে বর্ষার কারণে। বাকি কাজ পরে করা হবে।”
মেয়র বলেন, “আজকে প্রবর্তক মোড়, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, বাকলিয়াতে পানি নেই। আগ্রাবাদে গুলজার খালের কিছু কাজ বাকি আছে। আশা করি, কাজ শেষ হলে আর সেখানে পানি উঠবে না।”
ভারি বর্ষণে লালখান বাজারে দু-তিনটি বড় গাছ ভেঙে পড়েছে এবং বিমানবন্দর সড়কে একটি সড়ক ভেঙে গেছে বলেও জানান মেয়র শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাতে খুব বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে সকালের জোয়ার যোগ হয়েছে। যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, সে পরিমাণ পানির ধারণ ক্ষমতা নালাগুলোর নেই।

“আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় আমরা এখনো কাজ করছি। রাতভর আমরা শহরের বিভিন্ন অংশে কাজ করেছি। পানি যাতে দ্রুত নেমে যায়, সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।”
চট্টগ্রাম নগরীতে অন্যান্য সময় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হত। গত এপ্রিলের শেষেও নগরীর প্রবর্তক মোড়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, জিইসি, মুরাদপুর, রহমতগঞ্জ, সিরাজদ্দৌলা সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়।
এরপর সমালোচনার মুখে হিজরা খাল ও জামালখান খালের বাঁধ কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মে মাসের মধ্যে এসব বাঁধ সরিয়ে নিয়ে চলতি বর্ষা মৌসুমের জন্য খাল দুটির সংস্কার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।