Published : 04 Aug 2025, 04:12 PM
ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের অধ্যক্ষ আমান উল্লাহকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ৩১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের (সরকারি কলেজ-২) উপসচিব মো. আব্দুল কুদদুস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে ওএসডি করা হয়েছে।
কলেজের বর্তমান উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাকির হোসনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আমান উল্লাহ কলেজের উপাধ্যক্ষ সাকির হোসেনের কাছে পদের দায়িত্বভার হস্তান্তরপূর্বক ৩ অগাস্ট অপরাহ্ণের আগে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন। অন্যথায় একই তারিখ অপরাহ্ণে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবে।
বিষয়টি জানাজানি ৩ অগাস্ট বিকালে জানাজানি হয়। কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
অধ্যক্ষ আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল। তার অপসারণের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বেশ কয়েকবার।
‘বিএনপিপন্থী’ শিক্ষকরা বলছেন, অধ্যক্ষ আমান উল্লাহ ‘আওয়ামী লীগ সমর্থক’ এবং বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের একজন ‘প্রভাবশালী নেতা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি তার রাজনৈতিক পরিচয়ে ব্যাপক সুবিধা ভোগ করেছিলেন।

করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের টাকা এবং পিকনিকের জন্য নেওয়া ‘টাকা আত্মসাতের’ অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় অধ্যক্ষ আমান উল্লাহ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘মদদ’ দিয়েছেন। তাদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছিল সেসময়।
আনন্দ মোহন কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খান মোহাম্মদ লুৎফুল কবির বলেন, “২৪ পরবর্তী চেতনা অধ্যাপক আমান উল্লাহর মধ্যে ছিল না। কারণ তিনি ২৪ পূর্বের লোক। তার বদলিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরবে ক্যাম্পাসে।”
আমান উল্লাহর ওএসডি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তার বিদায়কে কলেজের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহবায়ক ও আনন্দ মোহন কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, “অধ্যক্ষ আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মে বিগত সময়ে কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন এবং জেলা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। তাকে বদলি আরও আগেই করা উচিৎ ছিল।
“যাই হোক এখন বদলি হওয়াতে স্বস্তি ফিরেছে। অবশেষে কলেজ রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির কবল থেকে মুক্তি পেল। কলেজের শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ আমান উল্লাহ বলেন, “অধ্যক্ষ হিসেবে নিজের সঠিক দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। যারা বলছে, অনিয়ম করেছি তারা ব্যক্তি স্বার্থে বলছেন।
“সরকারি চাকরি বদলি তো হবেই, তবে যেখানেই যাই না কেন, নিজের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করবো।”
উপাধ্যক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব পাওয়া অধ্যাপক সাকির হোসেন বলেন, “রোববার বিকালে আমি দায়িত্বগ্রহণ করেছি। আমি একটি প্রোগ্রামে রয়েছি তাই বেশি কথা বলতে পারছি না।”