Published : 23 Jul 2026, 07:02 PM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের প্রধান মেডিকেল অফিসারকে অবরুদ্ধ করে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নেতারা।
পাশাপাশি প্রধান মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধেও কিছু অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ করেন তারা।
বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টা থেকে ৩টা পর্যন্ত প্রধান মেডিকেল অফিসার শামসুর রহমানকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
জাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মুবারক বলেন, “উনার বিরুদ্ধে ওষুধের হিসাবসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। সেগুলোর কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। প্রশাসনেরও এ বিষয়ে দীর্ঘদিনের গাফিলতি রয়েছে। তাই আমরা তাকে অবরুদ্ধ করেছি।”
তিনি বলেন, “মেডিকেল সেন্টারের নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের প্রতিবাদ এবং চিকিৎসাকেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যালে রূপান্তরের দাবিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাত দিনের মধ্যে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, ছয়জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ, মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আরো ১০টি কক্ষ নির্মাণ, অপারেশন থিয়েটারের আধুনিকায়ন, নতুন দুইটি অ্যাম্বুলেন্স চালু এবং মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক হিসেবে একজন শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান।
হুসনে মুবারক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেয়ায় আপাতত অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এর আগে মেডিকেল সেন্টার থেকে ৩০ জুন-২১ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধের হিসাব নেই বলে অভিযোগ উঠে। এসব ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৩ হাজার ১১০ টাকা।
এছাড়া প্রধান মেডিকেল অফসারের নামে দায়িত্বে অবহেলা, মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্স ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ একাধিক অভিযোগ ওঠে।
প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা মো. শামছুর রহমান বলেন, “স্টোরের চাবি ও মজুদের দায়িত্ব স্টোর অফিসারের অধীনে থাকায় এ বিষয়ে তার জবাবদিহি প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “মেডিকেল সেন্টারের অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
“কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে (স্টোর) সাময়িক বরখাস্ত
এর আগে একই দিনে মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদে গরমিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ’-এর ১০(ক)(২) ধারা অনুযায়ী ২৩ জুলাই পূর্বাহ্ন থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি সর্বশেষ মূল বেতনের অর্ধেক জীবিকা নির্বাহ ভাতা এবং প্রযোজ্য অন্যান্য ভাতা পাবেন বলে আদেশে বলা হয়।
একই সঙ্গে পৃথক আরেকটি অফিস আদেশে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারকে সভাপতি এবং কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার আলাউদ্দিন মোল্লাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
অন্য সদস্যরা হলেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. সালেকুল ইসলাম এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুছ ছাত্তার।
কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, দায় নির্ধারণ এবং প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।