Published : 23 Jul 2026, 08:24 PM
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক কর্মচারীকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে বৃহস্পতিবার ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা দিয়ে দেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়’ ২৪ হলের গণরুম-সংলগ্ন ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে মোবাইল ব্যবহার করে এক ছাত্রীর ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে ওই ছাত্রী আতঙ্কিত হয়ে সহপাঠীদের জানান।
খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
বিষয়টি নিরাপত্তাকর্মীদের জানালে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসানকে আটক করা হয়। তাকে মারধর করে শিক্ষার্থীরা।
ইমাম হাসানকে আটকের পর তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘মারমুখী আচরণ’ করেন এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ কারণে তাকেও আটক করা হয়।
পরে হল প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং পুলিশকে খবর দেয়।
হরিণটানা থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত ইমাম হাসান পিটুনির শিকার হওয়ায় তাকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে গ্রেপ্তার ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসান ও তার স্ত্রী রূপামনিকে আদালতে পাঠানো হলে ইমাম হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ছাত্রী হলের ক্যান্টিনে পুরুষ কর্মী নিয়োগের বিধান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. তারেক বিন সালাম বলেন, “অর্ডিন্যান্স দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে হবে। এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।”
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিনা আহমেদ বলেন, এ ঘটনার পর ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল ও হলের কর্মচারীদের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবাদে উত্তাল ক্যাম্পাস
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে ক্যাম্পাসেও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এছাড়া ইতিপূর্বে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুইজন শিক্ষক ও অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা দেয়ায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।
বিজয় ‘২৪ হলের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের নিরাপত্তার কথা বলে নানা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। কিন্তু নিজের হলেই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে এসব বিধিনিষেধের অর্থ কী? আগেও ওই ব্যক্তির আচরণ নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”