রোমাঞ্চকর জয়ে পর্তুগালের তিনে তিন
দারুণ পারফরম্যান্সে দুইবার ঘুরে দাঁড়িয়ে পয়েন্ট পাওয়ার আশা জাগালেও, খালি হাতেই মাঠ ছাড়তে হলো ডেনিশদের।
অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্যাম্প ছেড়ে গেলেও, এর বড় কোনো প্রভাব হয়তো পর্তুগাল দলের ওপর পড়েনি। অন্তত তাদের পারফরম্যান্সে তা ফুটে উঠল না। দুইবার পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ডেনমার্ক। তবে তৃতীয়বার আর পারল না তারা। উয়েফা নেশন্স লিগে টানা তৃতীয় জয় পেল জর্জে জেসুসের দল।
প্রতিপক্ষের মাঠে বৃহস্পতিবার ‘এ’ লিগের চার নম্বর গ্রুপে ৪-২ গোলে জিতেছে টুর্নামেন্টের শিরোপাধারীরা। শীর্ষস্থানও মজবুত করেছে তারা।
জুয়াও কান্সেলো পর্তুগালকে এগিয়ে নেওয়ার পর সমতা টানেন মিকেল ডামসগার্ড। গোল হজমের পরপরই গসালো রামোসের নৈপুণ্যে আবার এগিয়ে যায় দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রাসমুস হয়লুনের দারুণ গোলে আরেকবার সমতায় ফেরে স্বাগতিক দল।
এরপর ভিতিনিয়া আবার পর্তুগালকে এগিয়ে নেওয়ার পর, বদলি নেমে ব্যবধান বাড়িয়ে ডেনিশদের পয়েন্ট পাওয়ার আশা শেষ করে দেন জোয়াও ফেলিক্স।
স্কোরলাইনের মতো ম্যাচের অন্যান্য পরিসংখ্যানেও পর্তুগিজদের দাপট স্পষ্ট। বল দখলে একটু পিছিয়ে থাকলেও গোলের জন্য তাদের ১৯ শটের ১০টি লক্ষ্যে ছিল। ডেনমার্ক ১২ শট নিয়ে কেবল তিনটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে।
টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে পর্তুগাল।
আরেক ম্যাচে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে ওয়েলস। এই দুই দল এবং ডেনমার্কের পয়েন্ট সমান ৩ করে। গোলের হিসেবে ডেনিশরা দুইয়ে, নরওয়ে তিনে এবং ওয়েলস চারে আছে।
এই ম্যাচের আগে পর্তুগাল জাতীয় দলে নানা ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমের খবর মতে, কোচের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় বুধবার ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেকর্ড গোলদাতা পরে নিজেই নিশ্চিত করেন দল ছেড়ে যাওয়ার কথা।
এরপর কোচ জর্জে জেসুসের আচমকা ‘রোনালদোর সাত নম্বর জার্সি খাফায়েল লেয়াওকে দেওয়ার’ সিদ্ধান্ত চলমান বিতর্ককে বলা যায় আরও উসকে দেয়। তবে বাইরে এতকিছু ঘটলেও, ফের্নান্দস-রামোসরা মাঠে ঠিকই আলো ছড়ালেন।
ভাগ্য সহায় হলে ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটেই গোল পেতে পারতো তারা, কিন্তু কাছ থেকে গসালো রামোসের শট পোস্টে লাগে। পরের মিনিটেই অবশ্য দারুণ নৈপুণ্যে দলকে এগিয়ে কান্সেলো।
পোস্টে লেগে ফেরা বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেনি ডেনমার্ক। ডি-বক্সের বাইরে দৃঢ়তায় প্রতিপক্ষের একজনের চ্যালেঞ্জ সামলে রামোসকে ছোট পাস দিয়েই ভেতরে ঢুকে পড়েন কান্সেলো, এরপর ফিরতি পাস দুইজনের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান বার্সেলোনা ডিফেন্ডার।
দুই মিনিট পর অন্যপাশেও গোল হতে পারতো, তবে মর্টেন ইউলমারের শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ২২তম মিনিটে লেয়াওয়ের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে আটকান গোলরক্ষক।
পরের মিনিটেই চমৎকার গোলে সমতা টানেন ডামসগার্ড। ডি-বক্সে বাঁ দিকে সতীর্থের পাস ফাঁকায় পেয়ে উঁচু জোরাল শট নেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, বল দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে পায়।
জাতীয় দলের হয়ে এই নিয়ে সবশেষ ১০ ম্যাচে ছয়টি গোল করলেন ডামসগার্ড।
তাদের স্বস্তি অবশ্য দুই মিনিটও স্থায়ী হয়নি। মাঝমাঠের কাছে সতীর্থের পাস প্রতিপক্ষের দুইজনের মাঝে পেয়েই ব্রুনো ফের্নান্দসকে কাটব্যাক করেই দ্রুত এগিয়ে যান রামোস। এরপর অধিনায়কের ফিরতি থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এসি মিলান স্ট্রাইকার।
প্রথমার্ধে আশানুরূপ পারফর্ম করতে না পারা হয়লুন দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে দারুণ নৈপুণ্যে ফের দলকে সমতায় ফেরান। প্রতিপক্ষের একটি আক্রমণ সামলে পাল্টা আক্রমণে ওঠে তারা এবং মাঝমাঠ থেকে ডামসগার্ডের থ্রু পাস ধরে, ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন নাপোলি ফরোয়ার্ড।
এই অর্ধের প্রথম ১৫ মিনিটের চাপ সামলে ৬২তম মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পায় পর্তুগাল। তবে ফের্নান্দসের থ্রু বল দারুণ পজিশনে পেলেও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাসোস। দুই মিনিট পর হুবেন নেভেসের দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া শট রুখে দেন গোলরক্ষক।
এরপরই আবার এগিয়ে যায় সফরকারীরা। ফের্নান্দসের দারুণ ক্রস পেয়ে জোরাল হেডে জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম গোল করেন ভিতিনিয়া।
আগের দুই ম্যাচে গোল করা ফেলিক্সকে বিশ্রাম দিতে এদিন শুরুর একাদশে রাখেননি কোচ। তবে শেষদিকে অল্প সময় সুযোগ পেয়েই গোলের ধারা ধরে রাখলেন আল নাসর তারকা।
৮১তম মিনিটে পেদ্রো নেতোর বদলি নামার ছয় মিনিট পর, দালোতের পাস ডি-বক্সে পেয়ে ডান পায়ের শটে ফল নিয়ে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন ফেলিক্স।
