শেরপুরে ড্রামে নারীর লাশ: ‘অনৈতিক কাজের টাকার ভাগ নিয়ে খুন’, গ্রেপ্তার ৪
২২ অক্টোবর সেতুর নিচে একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া নারীকে অনৈতিক কাজের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে পিবিআই শেরপুর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত।
নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৬)। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার এরশাদনগরের শাকিল মিয়ার মেয়ে। তিনি একটি পার্লারে কাজ করতেন।
পিবিআই জানায়, ২২ অক্টোবর শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর ঝিনুকের ফুফু শিরিনা আক্তার তার স্বামী মো. সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচজনকে আসামি করে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা করেন।
পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, ২১ অক্টোবর ঝিনুকের পরিচিত মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমার সহযোগিতায় মো. সজল, মো. নুরুল ইসলাম ও মো. নুর মোহাম্মদ তাকে গাজীপুরের দক্ষিণখান এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে কয়েকজনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের পর ঝিনুক তার পাওনা টাকা চান। তাকে মাত্র এক হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, একপর্যায়ে ফাতেমা বটি দিয়ে ঝিনুককে কোপান। পরে অন্যরা গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করেন। এরপর লাশটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ট্রাকে করে শেরপুরে নিয়ে যান। পরে কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে ড্রামটি ফেলে যান তারা।
এ ঘটনায় প্রথমে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দীঘল গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ওরফে বাবুকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাগমারা গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে মো. সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা গ্রামের মো. নুর মোহাম্মদ গোসা এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা গ্রামের মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, “এটি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা। অনৈতিক কাজের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই পিবিআই শেরপুরের সদস্যরা দলবদ্ধভাবে কাজ করে দ্রুত মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন।”
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন-
