Published : 18 Mar 2026, 08:56 PM
নীলফামারীর চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ এর বগি বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে সরাসরি উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
ঈদযাত্রার চূড়ান্ত মুহূর্তে বুধবার দুপুরে এ দুর্ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা; বিশেষ করে যারা রাতে যাত্রা করবেন তারা ভ্রমণ নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন।
কারণ বগুড়ার সান্তাহার জংশনের যে জায়গায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে সেই পথ ধরেই উত্তরবঙ্গের ট্রেনগুলোকে চলাচল করতে হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে ওই পথ দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটি উদ্ধার করে পুনরায় কখন যোগাযোগ স্বাভাবিক করা যাবে- সে বিষয়ে চূড়ান্ত সময় বলতে পারছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এই অবস্থার মধ্যে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় যাত্রীদের ঈদযাত্রার কথা ভেবে বিকল্প পদ্ধতিতে ঢাকা-উত্তরবঙ্গে পথে ট্রেন চলানোর কথা জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “ঢাকা থেকে আজ সন্ধ্যায় ও রাত্রে ছাড়বে এরকম সবগুলো ট্রেন বের হয়ে এসেছে। শুধু পঞ্চগড় এক্সপ্রেস সেকশন ক্লিয়ার না হলে আসতে পারবে না।

“চিলাহাটি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সঠিক সময়ে ছাড়া সম্ভব হবে। এর মধ্যে উদ্ধার কার্যক্রম সমাপ্ত হলে এগুলোর কোনোটিই বাধাপ্রাপ্ত হবে না।
“যদি উদ্ধার কাজ শেষ নাও হয়, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সান্তাহার থেকে বিকল্প পথে কুড়িগ্রাম পাঠানো যেতে পারে। উদ্ধারকাজ শেষ না হলে সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দ্রুতযানও পথের মধ্যে আটকা পড়তে পারে।
“বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।”
পরে এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী বলেন, “রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা থেকে নীলফামারি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটগামী যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তনের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছাবেন।
তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় পঞ্চগড় থেকে আসা এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলের দুই প্রান্তে নেমে একে অপরের ট্রেনে উঠে যাত্রা সম্পন্ন করবেন।”
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে সকাল পৌনে ৭টায় ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি যাচ্ছিল ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’। বেলা ২টার দিকে ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশনে থামে। সেখান থেকে ট্রেনটি তিলকপুর স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

কিছু সময় পর আদমদিঘি উপজেলার বাগমারি এলাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের নয়টি বগি লাইন থেকে বেরিয়ে যায়।
রেলওয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এতে আহত হয় ৬৬ জন। এর মধ্যে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন। ৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ছয় জনকে বগুড়া আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ট্রেনটি উদ্ধার করার জন্য ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে রিলিফ ট্রেন রওয়ানা দিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঈদের মধ্যে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বলে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বগুড়ায় নীলসাগর লাইনচ্যূত: তদন্তে চার সদস্যের কমিটি
'লাইন সংস্কার চলছিল, তখনই ঢুকে পড়ে ট্রেন'
নীলসাগর এক্সপ্রেস বগুড়ায় লাইনচ্যুত, অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত
নীলসাগর এক্সপ্রেস বগুড়ায় লাইনচ্যুত, অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত