Published : 14 Aug 2025, 01:40 AM
কুমিল্লা থেকে কয়েকজন ঘুরতে এসেছিলেন সিলেটের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ দেখতে। ভোলাগঞ্জ থেকে নৌকা দিয়ে সীমান্তবর্তী সাদাপাথরের দিকে যাচ্ছিলেন আর সারি-সারি মেঘালয়ের পাহাড় ও ধলাই নদীর উৎসমুখের স্বচ্ছ জল দেখে মোহিত হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন। তবে নৌকা থেকে নেমে সেই সাদাপাথর দেখতে না পেয়ে অভিব্যক্তি পাল্টে গেল তাদের।
এক সময়ের পাথরের রাজ্যে তাদের স্বাগত জানাল বালু আর বালু। এদিক সেদিক যেদিকেই তাকান চোখে পড়ছে ধু ধু বালুচর। ছবি আর ভিডিওতে দেখা সেই পাথর না দেখে বেড়াতে আসার উচ্ছ্বাসে যেন ভাটা পড়ে তাদের।
মঙ্গলবার বিকালে ঘণ্টা দেড়েক পর ঘোরাঘুরি শেষে সাদাপাথর থেকে ফেরার পথে কথা হয় সেই দলের মো. নোমান আহমদের সঙ্গে। হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভ ফুটে উঠল তার কণ্ঠে। বললেন, “এখানে কর্তৃপক্ষের সামনে লুটপাট চলতেছে, ইচ্ছা করলে অনেক কিছু করতে পারে। যা হওয়ার হয়ে গেছে, যতটুকু আছে সেটুকু যেন রক্ষা করা হয়। আগে যা পাথর ছিল, এখন পাথর নাই বললেই চলে।
”এ রকম একটা পর্যটন শিল্প আমাদের রাতারাতি ধ্বংস হয়ে গেল। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এই শিল্পটাকে পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
একই দলের সদস্য হোসাইন মো. এরশাদ বলেন, “এর আগে আমি আসছিলাম, তখন প্রচুর পাথর ছিল। প্রশাসনের সামনে এগুলো নিয়ে গেছে, প্রশাসনের কোনো দায়ভার নেই। সবাই জানি, সাদাপাথর একটি বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র। প্রশাসনের সামনে এটি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই ভোলাগঞ্জের সবাই জানে পাথরগুলো কোথায় আছে।”
কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তবর্তী ধলাই নদীর উৎসমুখে ‘জল-নুড়ি-পাথর’ জমে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া অপরূপ সৌন্দর্যের পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ লোভীদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হতে হতে এভাবেই যেন শেষ হয়ে গেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনে-রাতে লুটে নেওয়া হয়েছে শত শত কোটি টাকার খনিজ সম্পদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লুটেরাদের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘অসৎ’ লোকজন জড়িত। অনেক আপত্তি-অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ করেও কোনো ফল হয়নি।
এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে খবর প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার মধ্যে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
সাদাপাথর নিয়ে হৈ চৈ এর মধ্যে লুট হওয়া সব পাথর উদ্ধার করে এ এলাকাকে আগের চেহারায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার জেলা প্রশাসনের জরুরি বৈঠকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এটিসহ আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরমধ্যে রয়েছে –
>> চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
>> সাদাপাথর এলাকার পাশাপাশি জাফলং ইসিএ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
>> গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে চেকপোস্টে যৌথ বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
>> অবৈধ পাথর ভাঙা মেশিনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করাসহ বন্ধ করার জন্য অভিযান চলমান থাকবে।
>> পাথর চুরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হবে।
এর আগে সাদাপাথরে নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনায় বুধবার একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করার তথ্য দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ।
তিনি বলেন, লুটপাটের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সাদাপাথরে কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। আগামী রোববারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।

পর্যটন ব্যবসায় ‘টান’
সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে কিছু মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। পাথর লুট হওয়ায় পর্যটনকেন্দ্রটি সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। ফলে পর্যটকদের আনাগোনাও দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে জানালেন স্থানীয়রা।
মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “এর আগে আসি নাই। তবে মোবাইলে দেখে সৌন্দর্য বিমোহিত হয়ে আসছিলাম সাদাপাথরে। এসে খুবই হাতাশ। সব জায়গায় দেখতেছি পাথর নাই।
“জাফলংয়ে দেখেছি, আমাদের সামনে পাথর নিয়ে যাচ্ছে, পুলিশ কিছু বলতেছে না। অথচ পুলিশ পর্যটকদের নামতে বাধা দিচ্ছে। সাদাপাথরের প্রায় ৮০ ভাগ পাথর নিয়ে গেছে, যে ২০ ভাগ আছে সেটুকু যেন থাকে।”
লুটপাট বন্ধে বাধা দেওয়ার কথা তুলে ধরে সাদাপাথর ফটোগ্রাফি সোসাইটির সভাপতি মো. আলমগীর আলমের অভিযোগ, “প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এভাবে যদি লুটপাট চলতে থাকে সাদাপাথরের এক হাজারের বেশি ব্যবসায়ী ও ১৫০ জন ফটোগ্রাফার বেকার হয়ে যাবে। সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেলে তো আর পর্যটক আসবে না।”
ঘোড়া দিয়ে পর্যটক বহনকারী হাসান মিয়া বলেন, “আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি পাথর লুটপাট বন্ধ করতে। কিন্তু তারা মানে না। আমি এখানে প্রতিদিন ঘোড়া চালিয়ে ৫০০ টাকা পাই, এই টাকা দিয়ে আমার পরিবার চলে। লুটপাট করে পাথর নিয়ে গেছে, তাই মানুষ আসে না। আমাদের ঘোড়াও চলে না, ইনকাম নেই। আমাদের পরিবার অনেক কষ্ট করে চলতে হচ্ছে।”

ভোলাগঞ্জ ঘাট থেকে পর্যটকদের সাদাপাথর এলাকায় নিয়ে যাওয়া নৌকার মাঝিরা বলছেন, বর্তমানে যাতায়াত কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ছয় থেকে সাতবার যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে দু-তিনবার হয়। লুটপাট করে শেষ করে দেওয়ার কারণে পর্যটকরা এখানে আসতে চান না।
একজন মাঝি বলেন, নৌকা চালক সমিতিতে ১৬০টি নৌকা রয়েছে। আগে শুক্রবার হলে ৮০টি থেকে ১০০টি নৌকা ট্রিপ পেত। বর্তমানে প্রতিদিন ৩৫টি নৌকা সিরিয়ালে ট্রিপ মারছে, তাও কোনো নৌকা দুটি বা তিনটি ট্রিপের বেশি মারতে পারে না। আমরা প্রতি ট্রিপে আসা-যাওয়ার জন্য ৮০০ টাকা করে নেই।”
পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল করিম চৌধুরী কিম বলেন, “সাদাপাথরেতো পাথর লুট হয়ে গেছে। এই সিজনের যে পাথর আছে সবই তোলা নেওয়া হয়েছে। এখনো যে এটা থেমে যাবে, সেটা আশা করা যায় না।
“সিলেটের অন্যান্য এলাকাতেও পাথর উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে। জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হয়েছে এবং সেগুলোও বিরান করার প্রক্রিয়া চলছে। এই অবস্থাতে যদি প্রশাসন একেবারে দায়সারা ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সিলেটের মানুষের উচিত হচ্ছে সবাই রাজপথে বের হয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করা।”

সাদাপাথরে বালুচর আর গর্ত
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ভোলাগঞ্জ এলাকার নৌকাঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, আগের মত নেই পর্যটকদের চাপ। নৌকাঘাটের ব্যবসায়ীরা বসে আছেন।
নৌকা নিয়ে সাদাপাথরের দিকে যেতে দেখা যায়, ধলাই নদীতে পর্যটকবাহী নৌকার চাপ একেবারে কম। সাদাপাথর এলাকায় গিয়ে নৌকা থেকে নামতেই চোখে পড়ে ধু ধু বালুচর। সেখানে থাকা পাথর লুটপাটের কারণে নিচে বালু বের হয়েছে। চারপাশে বালু আর বালু।
বালুচরে হেঁটে মূল স্পটে গিয়ে দেখা মেলে কিছু পাথরের। তবে মূল স্পটের কোথাও কোথাও জেগে উঠেছে বালুচর। পর্যটকদের বসার জন্য রাখা ছাতাবিহীন চেয়ার পড়ে আছে বালুচরে। মূল স্পটে অন্যদিনের তুলনায় পর্যটকদের আনাগোনা কম।
পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ জলের ধারাতে পর্যটকদের কেউ সাঁতার, কেউবা কোমর পানিতে বসে ভিজছেন। আর চারপাশে স্বচ্ছ জল ছিটাচ্ছেন। এভাবেই নদী, পাহাড় আর টিলার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করেন ভ্রমণপিপাসুরা। কেউ কেউ আবার হাতে ছোট ছোট কয়েকটি পাথর নিয়ে জলে বসে সময় পার করছেন।
সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের বাম দিকে থেকে বাংকার পর্যন্ত অসংখ্য গর্ত করে তোলা হয়েছে পাথর। এসব গর্তের গভীরতা কোথাও তিন ফুট, কোথাওবা পাঁচ ফুট হবে। গর্ত করে পাথর তোলার কারণে বালু ভেসে ওঠেছে। এর আগে মে মাসে এই পাশে প্রচুর পরিমাণে পাথর দেখা মিলেছিল। পাথর জমতে-জমতে স্তর পড়েছিল। বর্তমানে বালু আর বালু।
সরকারি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীনের শঙ্কা
পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ‘ধরা’ এর আজীবন সদস্য ও সংগঠক অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, তীব্র স্রোতে ধলাই নদী হয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে এসব পাথর আসে। পাঁচ একরের বেশি জায়গাজুড়ে এগুলো জমা হয়, যা নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর ওইদিন রাত থেকেই সাদাপাথর, জাফলং, বিছানাকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় পাথর ও বালুসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ লুটপাটের হিড়িক পড়ে।
“তখন আমরা সাদাপাথর পরিদর্শন করে লুট বন্ধের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সাদাপাথর লুট পত্রিকায় এসেছে। কিন্তু জাফলং, লালাখাল, লোভাছড়া, বিছানাকান্দিসহ আরও অনেক এলাকার বালু ও পাথর লুটপাট হয়েছে, সেগুলো সংবাদপত্রে তেমন আসেনি।”
পাথর কোয়ারি নিয়ে গবেষণা করা অধ্যাপক জহিরুল আরও বলেন, “সাদাপাথর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রাকৃতিক কিছু বিষয় ও মানুষের হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত অনেক কিছু জড়িত। অবিলম্বে এ এলাকাকে সত্যিকার অর্থে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)’ ঘোষণা করে পুরো এলাকায় লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নদীকে নদীর মত থাকতে দিতে হবে। তাহলে হয়তোবা আগের অবস্থায় ফিরতেও পারে।”
লুটপাটে যারা জড়িত
ভোলাগঞ্জ ও সাদাপাথর এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, লুটপাটে বিএনপি, যুবদল ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সাদাপাথর ও রেলওয়ে বাংকার এলাকার পশ্চিমপাড়ের পাথর লুটের নেতৃত্বে রয়েছেন সদ্য পদ স্থগিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিন। আর পূর্বপাড়ের নেতৃত্বে সিলেট জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক বাহার আহমেদ রুহেলসহ আরও কয়েকজন।
এছাড়া সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলফু মিয়ার বিরুদ্ধে বালু-পাথর লুটের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

তাদের হাত থেকে ধলাই সেতু রক্ষার দাবিতে মঙ্গলবার ধলাই পাড়ের মানুষ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ধলাই সেতুর পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুই ঘণ্টা ধরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চলে।
লুটপাটের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদের মোবাইলে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক বাহার আহমেদ রুহেল বলেন, “আমি বালু-পাথর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমার নামে এসব ছড়াচ্ছে। আমি ডিজেল-মোবিলের ব্যবসা করি। বালু-পাথর লুটপাটের সঙ্গে আমি জড়িত না।”
প্রশাসনের দায় দেখছে দুদক
সাদাপাথরে নজিরবিহীন লুটপাটে প্রশাসনের দায় দেখছে সেখানে অভিযানে যাওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা। পর্যটন এলাকা সাদাপাথরের সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন তারা।

বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যায় দুদকের সিলেট কার্যালয়ের একটি দল। পরিদর্শন শেষে উপ-পরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাত সাংবাদিকদের বলেন, “এটা মূলত স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব। প্রশাসন আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা দরকার ছিল। এছাড়া খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোসহ যেসব বিভাগ এর সঙ্গে যুক্ত তাদের লুট ঠেকাতে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন ছিল।”
লুটপাট শেষ হওয়ার পর পরিদর্শনে আসা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনায় কাজ করি। নির্দেশনা পেয়ে এখানে এসেছি। তাছাড়া সিলেট কার্যালয় থেকে সাদাপাথরের অনেক দূরত্ব। আমাদের জনবলও কম।”
কারা এই লুটের সঙ্গে জড়িত- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আশপাশে অনেক স্টোন ক্র্যাশার মিল। এগুলোতে এখান থেকে পাথর নিয়ে ভাঙা হয়। এছাড়া এর সঙ্গে এখানকার প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্থানীয় লোকজন, আরও অনেক উচ্চস্তরের ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীরা জড়িত বলে শুনতে পাচ্ছি। আমরা এসব তথ্য নিয়ে আরও কাজ করব।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারের মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের মাহমুদ আদনান সাংবাদিকদের বলেন, “সাদাপাথর লুট বন্ধে ২০টি মামলা করেছি। আমরা খবর পেলেই ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্পেশাল টাস্কফোর্সের টিম অভিযান চালাচ্ছি। নিয়মিত ওই এলাকায় টহল দেওয়া হয়।”

বাপার মানববন্ধন
সাদাপাথরসহ কয়েকটি এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এসব স্থানের পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা সিলেট জেলা শাখা।
বুধবার বিকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাপা সিলেটের সভাপতি জামিল আহমেদ চৌধুরী। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাসমির রেজা।
মানববন্ধন শেষে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. শের মাহবুব মুরাদের কাছে একই দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
সাদাপাথরে লুটপাট, বিএনপি নেতার পদ স্থগিত
যাদুকাটায় লীগের জায়গায় বিএনপি, 'বালুখেকোরা' আরও বেপরোয়া
যাদুকাটায় পাড় কাটা বন্ধ হলেও ড্রেজারের তাণ্ডব চলছে
কাটা হচ্ছে যাদুকাটার পাড়, গ্রামগুলো হুমকিতে
জাফলংয়ে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে পাঁচ স্থানে ব্যারিকেড
জাফলংয়ে 'বালু তোলা নিয়ে' সংঘর্ষ, আহত ৭