জাফলংয়ে ‘বালু তোলা নিয়ে’ সংঘর্ষ, আহত ৭
“নতুন করে বিক্ষিপ্তভাবে বালু উত্তোলন চেষ্টায় যারা জড়িত তাদের নাম সংগ্রহ করা হয়েছে; তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার হবে।”
সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে পিয়াইন নদী থেকে ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে গিয়ে’ সংঘর্ষে সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নদীর খেয়াঘাটে এ সংঘর্ষ হয় বলে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান।
জাফলং এলাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা বলছেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চক্রটি আবার ‘সক্রিয়’ হয়েছে। বুধবার তারা পিয়াইন নদীতে কিছু শ্রমিক নামিয়ে বালু উত্তোলন করায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বালু তুলতে ফের শ্রমিকদের নামানো হয়। এ সময় নদীর খেয়াঘাট এলাকায় বারকি নৌকা বাধা নিয়ে সংঘর্ঘে জড়ায় শ্রমিকেরা। তখন বেশ কয়েকজন আহত হন।
তাদের অভিযোগ, বালু উত্তোলনকারী চক্রটির কাজ এতদিন বন্ধ ছিল; তারা আস্তে আস্তে আবার নদীতে অবৈধ কাজ চালাতে শুরু করেছে।
ওসি সরকার তোফায়েল আহমেদের ভাষ্য, “খেয়াঘাটে নৌকা বাধাকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে। বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে নয়।”
তিনি বলেন, “বালু উত্তোলন বন্ধে নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন, উনি যখন টহলে যান তখন থানার পুলিশ সদস্যরা সঙ্গে থাকেন। তারপরও আমি আবার পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি।”
গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাঈদুল ইসলাম বলেন, “বালু উত্তোলন বন্ধে মাইকিং করা হয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে অবৈধ পস্থায় বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ১২ জন আনসার সদস্যদের নিয়ে দুটি ক্যাম্প করা হয়েছে, তারা নিয়োজিত আছেন। আজকের মারামারি বিষয়ে পুলিশ জানে।”
ইউএনও তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিক্ষিপ্তভাবে বালু উত্তোলন করতে গিয়ে নৌকা বাধাকে কেন্দ্র করে বালু শ্রমিক, খোয়াঘাটের লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ত্রিমুখী এ সংঘর্ষের ঘটনায় আহত সাতজন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।
তিনি বলেন, “বালু উত্তোলন চেষ্টায় যারা জড়িত, তাদের নাম সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার হবে। আর পুরাতন মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের ধরতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। আর দ্রুতই আবার বড় আকারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
