Published : 13 Jun 2026, 11:33 PM
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতক রয়েছে অজ্ঞাত আরেক আসামি।
এদিকে, আতঙ্কে বাড়ি ফিরতে পারছেন না ‘ভুক্তভোগী’ নারী। স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে অবস্থান করছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, শুক্রবার বিকালে মামলার পর পরই পুলিশ এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পলাতক অপর আসামিকেও গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ (৪০) এবং তার সহযোগী একই এলাকার শাহিন মিয়া (৩৮)।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে টিনশেডের ভাড়া বাড়িতে দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে বসবাস করেন ওই নারী। বুধবার বিকালে ভাড়া বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে শহীদ ও তার দুই সহযোগী মিলে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।
হাসপাতালে ‘ভুক্তভোগী’ নারী সাংবাদিকদের বলেন, তার রাজমিস্ত্রি স্বামী ওই দিন কাজের সুবাদে ঘরের বাইরে ছিলেন। এ সুযোগ তার বাড়িতে ঢুকে দুই শিশু সন্তানের সামনে মুখ চেপে ধরে রান্নাঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন তিনজন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি সালিশের মীমাংসার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ পরিবারটির। পরে শুক্রবার বিকালে থানায় গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি করেন ৩৩ বছর বয়সী নারী।
তিন দিন পর শনিবার বিকালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু এরপর আর তিনি বাড়িতে ফিরে যেতে ‘সাহস’ পাচ্ছেন না বলে জানান।
ওই নারী বলেন, “এলাকার লোকজন বিষয়টি মীমাংসার জন্য বলেছিল। এখন তো আমি মামলা করছি, তারা গ্রেপ্তারও হইছে। এখন এলাকায় গেলেই সমস্যায় পড়তে হবে। আবার পুলিশের যারা আমারে ডাক্তারের কাছে নিয়া আসছেন, তারাও এলাকায় ফিরতে না করছেন। কইছেন, বাপের বাড়ি বা শশুরবাড়ি গিয়ে থাকতে। তাদের তো কিছু জানাই নাই। এখন কই যামু বুঝতে না পাইরা হাসপাতালেই ভর্তি হইছি।”
ওই নারীর শ্বশুরবাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকায়, অন্যদিকে বাবার বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। কিন্তু দুই পরিবারের কেউই ঘটনা সম্পর্কে জানেন না। ফলে এ পরিস্থিতিতে সেখানেও যেতে পারছেন না বলে জানান তার রাজমিস্ত্রি স্বামী।
তবে, এ বিষয়ে পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর পরই আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা নির্ভয়ে ওই গ্রামে থাকতে পারবেন, তাদের নিরাপত্তা পুলিশ দেবে। এমনকি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। যদিও তারা আতঙ্কের বিষয়টি আমাদেরকে এখনো জানাননি।
“আর পুলিশের কোনো সদস্য যদি ভয় দেখিয়ে থাকেন তাদের কথাবার্তার মাধ্যমে তাহলে সে বিষয়ে খোঁজখবর করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”