২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে হত্যা: বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ও ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দিতে চাইলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 07:49 PM

Updated : 21 Sep 2026, 07:49 PM

খুলনা নগরের একটি মেসে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি করেন। পরে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। বিক্ষোভে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সংহতি জানান।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘এক লোকমা ভাতের তরে মায়ের বুক খালি করে, আজমুল হত্যার বিচার চাই’, ‘আমার ভাই মরল কেন, জবাব চাই’- এমন লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

অবরোধের কারণে সোনাডাঙ্গা এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বেলা দেড়টার দিকে কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কানাই লাল সরকার বলেন, একাধিক ব্যক্তি মিলে আজমুলকে মারধর করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।

ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ জানান তিনি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেছে। এ আশ্বাসের পর তারা কর্মসূচি শেষ করেন।

২১ বছর বয়সী আজমুল চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে ইসলামনগর মসজিদ গলির একটি চারতলা ভবনে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্রের মেস রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে আজমুল সেখানে থাকতেন।

মেসের ছাত্রদের কাছ থেকে স্থানীয়রা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেসের ম্যানেজার মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এরপর ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার’ অপবাদ দিয়ে মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।

এরপর আশপাশের বাসিন্দারা ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান। পরে গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখে মেসের শিক্ষার্থীরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন।

তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। নিরীহ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন-

পুরানো খবর:

খুলনায় মেসে ‘ভাত চুরির’ অপবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

পুরানো খবর:

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র খুন: খুলনার সেই ছাত্রাবাসের আটটি কক্ষের সাতটিতেই তালা

পুরানো খবর:

‘ভাত চুরির’ অপবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে খুন: চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

পুরানো খবর:

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে হত্যা: মেসে নেই কেউ, কথা বলতে চান না এলাকাবাসী