Published : 20 Sep 2026, 10:03 PM
খুলনা নগরের ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরির’ অপবাদ দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার পর এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি দেখা গেছে। মানুষের আনাগোনাও ছিল কম।
রোববার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী আবাসিক হলের (খাজা হল) পেছনের ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির চারতলা মেসটিতে গিয়ে দেখা যায়, মেসটি খোলা রয়েছে, কিন্তু সব কক্ষই তালাবদ্ধ। এ ছাড়া এলাকার বেশ কয়েকজনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাস করলেও তারা এড়িয়ে চলে যান। কোনো কথা বলতে রাজি হননি তারা।
স্থানীয় একজন বলেন, “পুলিশের ভয়ে হয়ত মেস ছেড়ে চলে গেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া আগে অনেক লোকজন চলাচল করলেও আজকে মানুষের আনাগোনা কম।”
আজমুল হোসেন হত্যার ঘটনায় শনিবার রাতে তার বাবা মো. কুতুব উদ্দিন খুলনার হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
মামলায় চার শিক্ষার্থী নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
২১ বছর বয়সি আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবন পুরোটার ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। চারতলায় মোট আটটি কক্ষ রয়েছে। ডি-২ কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।
মেসের ছাত্রদের কাছে স্থানীয়রা শুনেছেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।
এরপর ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। পরে তারা গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় মেসের ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।