Published : 19 Sep 2026, 09:57 PM
খুলনা নগরে ‘ভাত চুরি’ করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর থেকে ছাত্রাবাসটির একটি ছাড়া সবগুলো কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
শনিবার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডের ছাত্রাবাসে গিয়ে দেখা যায়, আটটি কক্ষের সাতটিই তালাবদ্ধ। এর মধ্যে ডি-৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন হত্যার শিকার ছাত্রটি।
এর আগে শুক্রবার রাতে চারতলা ভবনের এই ছাত্রাবাসে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির।
নিহত ২১ বছর বয়সি আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি নগরের বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন।
এদিন দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডি-১ নম্বর কক্ষে নক করলে বেরিয়ে আসেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লাবিব বিশ্বাস রাসেল। তিনি বলেন, চুরির অভিযোগে কয়েকজন আজমুলকে ছাদে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধর করা হয়। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
অন্য সাতটি কক্ষের ছাত্ররা কোথায় গেছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই।
একটু পরে সেখানে আরেক এক ব্যক্তি আসেন। তিনি নিজেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দিলেও নাম এবং ছাত্রাবাসে থাকেন কিনা তা জানাতে অপারগতা দেখান।
এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আজমুলের বিরুদ্ধে দেড় হাজার টাকা এবং টি-শার্ট চুরির অভিযোগের কথা শুনেছেন তিনি।
পরে ভবনের ছাদে গিয়ে দেখা যায়, একপাশে অনেক মানুষের পায়ের চলাচলে ধুলাবালি ও ছাদের কিছু অংশের আস্তরণ সরে যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। এমনকি ভবনের ছাদে স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পুলিশ জানায়, সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবন পুরোটার ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। চারতলায় মোট আটটি কক্ষ রয়েছে। ডি-২ কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।
মেসের ছাত্রদের কাছে স্থানীয়রা শুনেছেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।
এরপর ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। পরে তারা গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় মেসের ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর শোনার পর মেসের ছাত্ররা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে দ্রুত চলে যান বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে ঘটেছে, তাই সেখানে সরাসরি তাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তবে ঘটনাটি জানার পর থেকে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন তারা।