Published : 19 Sep 2026, 10:45 PM
খুলনায় ছাত্রাবাসে ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার’ অপবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন ওরফে আযমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
শনিবার রাতে আযমের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি করেন বলে হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন জানান।
তিনি বলেন, “মামলায় চারজনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি আমরা তদন্ত করছি। জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
নিহত ২১ বছর বয়সি আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি নগরের বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডের ছাত্রাবাসে গলি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবন পুরোটার ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল চারতলার ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। চারতলায় মোট আটটি কক্ষ রয়েছে। ডি-২ কক্ষে থাকেন মেসের ম্যানেজার ও গোপালগঞ্জ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মেহেদী।
মেসের ছাত্রদের কাছে স্থানীয়রা শুনেছেন, শুক্রবার রাতে মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত আজমুলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।
এরপর ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। পরে তারা গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় মেসের ছাত্ররা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।