Published : 21 Jun 2026, 02:12 PM
হাসপাতাল চালুর পূর্ব প্রতিশ্রুতি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ডাক দিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় সদরের মদনপুরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা হাসপাতাল ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
গত বছরের ১৫ এপ্রিল একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দিয়েছিল।
কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা একই দাবিতে দ্বিতীয় দফা আন্দোলনে নেমেছে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
রোববারের বিক্ষোভ চলাকালে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াস চন্দ্র দাস, সাইদুল ইসলাম সাকিব, শাহপরান, কায়েস আব্দুল্লাহ জামাল, রাফাত রেজা আকাশ, ফারজান আহমেদ মিম, তামিমা রহমান ও শামসিয়া তাব্বাসুম মাইশাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “আমাদের মেডিকেলের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিজ ক্যাম্পাসের হাসপাতাল পাচ্ছি না। হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ওয়ার্ড সুবিধা না থাকায় বাস্তাবিক জ্ঞান থেকে আমরা পিছিয়ে আছি।
“এক বছরের মধ্যে মেডিকেল কলেজ চালুর আশ্বাস দিলেও এখন চালুর কোনও খবর নেই। তাই আমরা বাধ্য হয়ে আবার একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে রাজপথে নেমেছি। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আমরা ক্লাসে ফিরব না।”

জানা যায়, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। তখন অস্থায়ী ক্যাম্পাস থাকলেও দুই বছর স্থায়ী ক্যাম্পাস পায় শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষার জন্য এই মেডিকেল কলেজের অধীনে হাসপাতাল চালুর কথা ছিল। কিন্তু ৫০০ শয্যার সে হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও চিকিৎসা কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন।
বর্তমানে কলেজটিতে ছয়টি ব্যাচে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। তবে নিজস্ব হাসপাতাল চালু না থাকায় প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সপ্তাহে দুদিন ইন্টার্নি ক্লাস করানো হচ্ছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্হে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল হাসপাতাল চালু ও কলেজের শিক্ষক সংকট দূরীকরণের দাবিতে আন্দোলন নামেন শিক্ষার্থীরা। সে সময় টানা ক্লাস বর্জনের খবর পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দেন। ওই আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী ফারজান আহমেদ মিম বলেন, “এক বছর আগে দেওয়া ওই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হাসপাতাল চালুর কোনও খবর নেই। শিক্ষক সংকট ও একাডেমিক সুযোগ সুবিধা সংকট দূর করার কোনো উদ্যোগও নেই। তাই বাধ্য হয়ে আবারও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে দাবি আদায়ের জন্য আমরা পথে নেমেছি।”
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহমদ ভূইয়া বলেন, “শিক্ষার্থীরা মেডিকেল হাসপাতাল চালু ও একাডেমিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য ক্লাস বর্জন রেখে আন্দোলন করছে। আমরা ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারাও হাসপাতাল চালুর বিষয়ে আন্তরিক।”
হাসপাতাল চালুর দাবিতে সুনামগঞ্জ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ