Published : 16 Mar 2026, 12:16 PM
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ধান, শাকসবজি ও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ভুট্টা ক্ষেতের অনেক গাছ ভেঙে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
শনিবার রাতে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টার গাছ ভেঙে মাটিতে নুয়ে পড়েছে; পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম অপরিপক্ক ভুট্টা।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, কম খরচ ও স্বল্প পরিশ্রম এবং লাভ বেশি হওয়ায় ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছিলেন ঝিনাইগাতী উপজেলার কৃষকরা। সরকারি প্রণোদনা ও সহযোগিতায় প্রতি বছরই বাড়ছিল ভুট্টা চাষ। এবার ফাল্গুনের শেষে শনিবার রাতের শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অনেক চাষি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছিলেন। শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টার সব গাছ ভেঙে এখন মাথায় হাত উঠেছে তাদের।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৩৩০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। এর মধ্যে আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ১০ হেক্টর জমির ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝিনাইগাতী সদর উপজেলার প্রতাবনগর গ্রামের কৃষক রাজিবুল ইসলাম রাজিব বলেন, দিন দিন ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর কমতে থাকায় কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের কম পানিতে রবিশষ্য চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হতো। এছাড়া কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হতো।
ধানের চেয়ে ভুট্টার চাষ লাভজনক। ফলে বন্যা পরবর্তী সময়ে অল্প পরিশ্রম ও খরচে লাভ বেশি হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে চাষিরা ভুট্টা চাষ করে আসছিলেন বলে জানান তিনি।
এই কৃষক বলেন, “এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আমিও ৫ একর জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছিলাম। শিলাবৃষ্টি আর ঝড়ে ক্ষেতের অধিকাংশ ভুট্টা গাছ ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ করবো কিভাবে সেই চিন্তায় আছি।”
কৃষকরা বলছেন, শিলাবৃষ্টির কারণে প্রতি বিঘা জমিতে ৩০-৩৫ হাজার টাকার ভুট্টা নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকরা সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা কামনা করছেন।
নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, “সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে পড়বে বর্গা চাষিরা। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা না দিলে পথে বসতে হবে।”
এদিকে ভুট্টা ক্ষেত ছাড়াও বিভিন্ন সবজির বাগানসহ আম ও লিচুর মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভয়েজ অব ঝিনাইগাতী’র আহ্বায়ক জাহিদুল হক মনির বলেন, “আকস্মিক এই শিলাবৃষ্টিতে অনেকের ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে।
“পাশাপাশি কৃষকদের ধানের জমি ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করার জন্য খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জাসিনয়েছেন।