Published : 22 Apr 2026, 04:19 PM
ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে বড় বড় আয়োজন দরকার— সময় বের করা, উপহার দেওয়া, কিংবা বিশেষ দিনগুলোকে ঘিরে পরিকল্পনা করা- যা অনেকের জন্যই খুব সাধারণ ভাবনা।
তবে বাস্তবে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি খুবই সহজ। আর সেটা প্রায়ই অবহেলায় থেকে যায়, তা হল—‘নীরবে পাশে থাকা’।
মানে, প্রিয় মানুষটির সঙ্গে থাকার সময় পুরো মনোযোগ দিয়ে তার পাশে থাকা, তার কথা শোনা এবং তাকে অনুভব করা। এই ছোট অভ্যাসই অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ককে গভীর ও স্থায়ী করে।
নীরবে পাশে থাকা বলতে যা বোঝায়
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ট্রমা নার্স ও পরামর্শক কেলি এডমন্ডসন রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “নীরবে উপস্থিত থাকা কোনো দুর্ঘটনাজনিত বিষয় নয়, এটি একটি সচেতন সিদ্ধান্ত।”
তার মতে, নীরবে পাশে থাকা মানে হল— কোনো বিভ্রান্তি ছাড়া কাউকে সময় দেওয়া। যেমন- একসঙ্গে বসে কথা বলার সময় ফোন সরিয়ে রাখা, টেলিভিশন বন্ধ রাখা বা অন্য কোনো কাজে মন না দেওয়া।
শুধু শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও পাশে থাকা বোঝায় এখানে।
অনেক সময় কারও কথা শুনতে শুনতেই নিজের উত্তরের কথা ভাবতে থাকি, যা আসলে পুরো মনোযোগ দেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
শোনার ভেতরেই আছে সংযোগের শক্তি
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী ডা. লিজ রস বলেন, “সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হল- প্রতিফলিতভাবে শোনা। এর মানে, কেউ কিছু বলার পর তাকে সংক্ষেপে বুঝিয়ে দেওয়া যে তার কথা বুঝেছেন। কেউ যদি বলে সে খুব ক্লান্ত, তখন বলতে পারেন— ‘এই সপ্তাহটা তোমার জন্য আসলেই খুব কঠিন গেছে’।”
এই ছোট অভ্যাস অন্য মানুষটিকে বুঝতে সাহায্য করে যে, তার কথা সত্যিই শোনা হয়েছে। এতে তার ভেতরে নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়।
লিজ রস আরও বলেন, “অনেক সময় আমরা দ্রুত সমাধান দিতে চাই। তবে বাস্তবে মানুষ সব সময় সমাধান চায় না, তারা চায় তাদের অনুভূতিকে কেউ গুরুত্ব দিক।”
সব সমস্যার সমাধান করা জরুরি নয়
কেলি এডমন্ডসন মনে করেন, “প্রিয় মানুষদের জন্য সব সমস্যার সমাধান করতে চাই’, এটি সব সময় প্রয়োজনীয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ শুধু চায় কেউ তার কথা শুনুক, তার অনুভূতিকে বুঝুক। কাউকে ঠিক করার চেষ্টা না করে তাকে অনুভব করা— এটাই নীরবে পাশে থাকার মূল শক্তি।”
যখন কেউ নিজের কষ্টের কথা বলে, তখন তাকে সঙ্গে সঙ্গে উপদেশ না দিয়ে একটু থেমে শোনা এবং তার অনুভূতিকে স্বীকার করা, সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।
এতে নিজেকে একা মনে হয় না এবং অন্য ব্যক্তিটির সঙ্গে গভীর মানসিক সংযোগ তৈরি হয়।
ছোট অভ্যাসে গড়ে ওঠে দক্ষতা
মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ও মননচর্চা প্রশিক্ষক ডা. লরি ব্রুস বলেন, “নীরবে উপস্থিত থাকার অভ্যাস একদিনে তৈরি হয় না। এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। শুরুতে প্রতিদিন মাত্র এক মিনিট মনোযোগ দিয়ে কোনো একটি কাজ করা থেকেই এই অভ্যাস শুরু করা যায়।”
প্রতিদিন জীবনের ছোট ছোট কাজের সময় নিজের ইন্দ্রিয়গুলোর দিকে মনোযোগ দিতে, তিনি পরামর্শ দেন।
যেমন- চা বা কফির কাপ হাতে নিলে, সেটার উষ্ণতা অনুভব করা। ঘরের চারপাশের শব্দ শোনা বা বাসন ধোয়ার সময় পানির স্পর্শ অনুভব করা।
এই ছোট ছোট অনুশীলন মনকে বর্তমান মুহূর্তে ফিরিয়ে আনে।
এভাবে ধীরে ধীরে মনকে প্রশিক্ষিত করলে অন্য মানুষের সঙ্গেও আরও মনোযোগ দেওয়া যায়।
প্রযুক্তির যুগে মনোযোগের সংকট
এ সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল- মনোযোগ ধরে রাখা। ফোন, সামাজিক মাধ্যম এবং নানান প্রযুক্তির কারণে সহজেই বিভ্রান্ত হতে হয়।
ফলে শারীরিকভাবে কারও সঙ্গে থাকলেও মানসিকভাবে অন্য কোথাও চলে যেতে হয়।
তাই কারও সঙ্গে সময় কাটানোর সময় প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকা এবং সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া- সম্পর্কের গুণগত মান বাড়াতে অনেকটাই সহায়ক।
আরও পড়ুন
সম্পর্কে ভালো শ্রোতা হবেন যেভাবে
সম্পর্ক গোপন রাখলে ঘনিষ্ঠতা কি বাড়ে?