Published : 22 Dec 2025, 10:09 AM
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে ৫৫তম বিজয় দিবস উদযাপন করেছে।
শনিবার পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় একটি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সহ-সভাপতি রিপা সুলতানা রাকীবের তত্ত্বাবধানে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
আলোচনা ও স্মৃতিচারণ পর্বে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের সাম্প্রতিক প্রয়াণে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সাক্ষাৎকারভিত্তিক স্মৃতিচারণ পর্বে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফরের উপস্থাপনায় স্মৃতিচারণে অংশ নেন সংগঠনের উপদেষ্টা শাহগীর বখত ফারুক এবং মুক্তিযোদ্ধা ও উপদেষ্টা আবু মুসা হাসান।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহারুন আহমেদের উপস্থাপনায় স্মৃতিচারণ করেন মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান ও উপদেষ্টা আব্দুর রাকীব। এছাড়া সহ-সভাপতি নিলুফা ইয়াসমীন হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক এম কিউ হাসানের উপস্থাপনায় আরও কয়েকজন উপদেষ্টা ও নির্বাহী সদস্য স্মৃতিচারণে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা হাবিব রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে প্রবাসে বসে পরিচালিত আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান। এছাড়া নির্বাহী সদস্য মারুফ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মির্জা আসাব বেগ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকী সুপ্রভার সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন রাশিদা বানু, তারেক সায়েদ, সৈয়দ জুবায়ের, কেজেবি কনক, রিপা সুলতানা রাকীব, কাজী কল্পনা, নিলা নিকি খান, সাঈদা চৌধুরী ও সাঈদা তামান্না।
কবি শামসুর রাহমানের কবিতা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ যৌথভাবে আবৃত্তি করেন মেজবাহ উদ্দিন ইকো ও মাহমুদা চৌধুরী। এছাড়া ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতি বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সংগীতশিল্পী সৈয়দ জুবায়ের ও তারেক সায়েদকে সম্মাননা পদক দেওয়া হয়।