Published : 22 Dec 2023, 11:11 PM
বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের প্রচারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা এবং আচরণবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
রাজশাহী ও ঝিনাইদহে দুটি নির্বাচনি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনুসারীদের মারধরের ঘটনায় দুটি জেলার ডিসি ও পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার রাতের মধ্যেই প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে ব্যবস্থা নিতে শনিবার বৈঠকও ডাকা হয়েছে কমিশনে।
প্রচারে আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে প্রতিদিন প্রতিবেদন দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের।
রাজশাহী ও ঝিনাইদহের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা ডিসি ও পুলিশ সুপারদের চিঠিগুলো দিয়েছেন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ শাহজালাল।
ঝিনাইদহ-১ আসনের অভিযোগের বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২১ ডিসেম্বর আনুমানিক সন্ধ্যা সাতটার দিকে শৈলকূপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের রয়েড়া বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলামের সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে।
হামলায় এতে উদেমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবদার হোসেন মোল্লাসহ তার পাঁচ কর্মী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়।
এসব ঘটনায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাইয়ের অনুসারী ‘ক্যাডার বাহিনী’ জড়িত বলে তথ্য পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয় এতে।
জেলায় আরও ফৌজদারী ও নির্বাচনি অপরাধ এবং আচরণবিধি বহির্ভূত কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার তথ্য ও অভিযোগ পাওয়ার কথাও জানায় নির্বাচন কমিশন।
রাজশাহীর ডিসি ও এসপিকে নির্দেশনায় রাজশাহী-৬ আসনের একটি ঘটনা তুলে ধরা হয়।
আসনটিতে লড়াই করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হা্নুল হক।
চিঠিতে বলা হয়, রাহেনুল হকের ছোটভাই নাজির হোসেনকে ২১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকেরা নির্বাচনি কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে।
এ জেলাতেও বিভিন্ন সময়ে ফৌজদারী ও নির্বাচনি অপরাধ এবং আচরণবিধি বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের তথ্য ও অভিযোগ পাওয়ার কথা জানানো হয় চিঠিতে।
দুটি চিঠিতেই শুক্রবার রাতের মধ্যেই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তবে এই প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে সে বিষয়ে জানতে পারেনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সার্বিক বিষয়ে শনিবার সকাল ১১টায় বৈঠক ডাকা হয়েছে কমিশনে।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত প্রায় দেড়শ স্বতন্ত্র প্রার্থী আসনে আসনে উত্তেজনা তৈরি করেছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে তারা প্রচারে নামার পর বিভিন্ন এলাকায় হাঙ্গামার খবর আসছে।
নির্বাচন কমিশনও আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে জোর দিচ্ছে। কোথাও বিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিদিন প্রতিবেদন পাঠাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন ইসির উপ-সচিব মো. খোরশেদ আলম।
এতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন বেলা ১১টার মধ্যে আগের দিনের প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছকে আচরণবিধি প্রতিপালন পর্যবেক্ষণে সময়, কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, অভিযোগ প্রাপ্তির উৎস সম্পর্কে জানাতে হবে।
আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে মাঠে ৮ শতাধিক নির্বাহী হাকিম দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া রয়েছে ৩০০ নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, মাঠ প্রশাসন ও পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার পরও পরিস্থিতি সামাল দিতে কোনো অবহেলা মেনে নেবে না কমিশন।
আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে।
আরো পড়ুন:
ভোটের শেষ পর্যন্ত ভালো পরিবেশ চাইলেন প্রার্থীরা
তৃতীয় পক্ষ যেন সমস্যা করতে না পারে: মাঠ প্রশাসনকে ইসির নির্দেশনা
স্বতন্ত্রের রেকর্ড: প্রতিদ্বন্দ্বিতার হাতিয়ার না শঙ্কার