১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটের শেষ পর্যন্ত ভালো পরিবেশ চাইলেন প্রার্থীরা

নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনার আলমগীর।

ভোটের শেষ পর্যন্ত ভালো পরিবেশ চাইলেন প্রার্থীরা

নির্বাচনের প্রচারে নেমে গেছেন প্রার্থীরা; ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার সড়ক ভরে গেছে পোস্টারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Dec 2023, 11:42 PM

Updated : 21 Dec 2023, 11:44 PM

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও কয়েকটি দলের প্রার্থী পরিবেশ নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। ভোটের শেষ পর্যন্ত যাতে পরিবেশ ভালো থাকে সেই দাবি তুলেছেন তারা। 

ঢাকার এসব প্রার্থীদের বক্তব্য শুনে ইসির তরফে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আচরণবিধি প্রতিপালনে প্রার্থীদের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে সহযোগিতা। 

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঢাকা জেলার ২০টি আসনের দেড় শতাধিক প্রার্থীর মতবিনিময় সভায় এসব নিয়ে আলোচনা হয়। 

ঢাকা জেলা ও মহানগরের ২০টি আসনে প্রার্থী রয়েছেন ১৫৬ জন, যাদের মধ্যে ২১ জন স্বতন্ত্র। 

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল, নির্বাচন কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সভা থেকে বেরিয়ে ঢাকা-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালমা ইসলাম বলেন, “আমি চাই শেষ পর্যন্ত যেন ভোটের পরিবেশ ভালো থাকে। এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভালো। আশা করছি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেন ভালো পরিবেশ থাকে।” 

তিনি জানান, অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ইসির দিক থেকে। পাশাপাশি শক্তিশালী এজেন্ট দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

ঢাকা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাঈদ খোকন বলেন, “নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে যায়, তা প্রার্থীদের নিশ্চিত করতে হবে।” 

তিনি বলেন, “কোনো প্রকার নাশকতা, সহিংসতা যাতে ভোটারদের মধ্যে শঙ্কার সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন এবং পরও যেন পরিবেশ ভালো থাকে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে।”

ঢাকা-১০ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী নায়ক ফেরদৌস আহমেদ বলেন, “মানুষ ভোটের জন্য জেগে উঠেছে। জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে। দেশবাসী শান্তি চায়, তারা স্থিতিশীলতা চায়, ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষ মারা যাক সেটি চায় না।” 

আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি। 

ঢাকা-১১ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেস দলের প্রার্থী মিজানুর রহমানের অভিযোগ, গত পরশু তার গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে এবং তার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। 

“এ বিষয়গুলো সভায় বলেছি। আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা চাই, সু্ষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হোক। কমিশন বলেছে, বিষয়টি দেখবেন।” 

ঢাকা-১৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা আক্তার তুহিন বিদ্যমান ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

 “এমন পরিবেশ থাকলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসবে।” 

জনগণ ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন বলে মনে করছেন ঢাকা-১৬ আসনের নৌকার প্রার্থী ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ। 

ঢাকা-১০ আসনের বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যান শাহরিয়ার ইফতেখার আচরণবিধি লঙ্ঘনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমালোচনা করেন। 

“তারা বাসার বাইরে ছোট ছোট অফিস খুলে রেখেছে, নানাভাবে তারা ঝামেলা তৈরি করছে। তারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে, অথচ কিছুই হচ্ছে না।”

ঢাকা-৪ আসনের বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মাসুম বিল্লাহ সোহেলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও তাদের দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাকে হুমকি দিচ্ছেন। 

“কিন্তু আমি নির্বাচন করব। আমার সমর্থন আছে।” 

ঢাকা-১৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেড আই রাসেল বলেন, “ভোটের পরিবেশ শেষ পর্যন্ত যেন ভালো থাকে, আমরা সেটিই চাই।” 

মতবিনিময় সভার শুরুতে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলার জন্য সব প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান। 

সভা শেষে সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, “নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছি, আপনারা প্রত্যেকটা কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেবেন। কোনো সমস্যা হলে সাথে সাথে প্রিজাইডিং অফিসারকে জানাবেন।”