সাংবাদিকতার নামে রাজনীতি করা সমীচীন নয়: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি সমাবেশের নামে ‘বড় পিকনিক’ করছে, অভিযোগ এসেছে ‘চাঁদাবাজিরও’, বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Nov 2022, 06:41 PM
Updated : 20 Nov 2022, 06:41 PM

বিএনপির সমাবেশের ছবি ও সংবাদ প্রকাশে ‘অপসাংবাদিকতা’ করা হচ্ছে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের আশা শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো এ থেকে বিরত থাকবে।

রোববার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকতার নামে ‘রাজনীতি করা সমীচীন নয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গতকাল (শনিবার) সিলেটে বিএনপির ও ঢাকার গাজীপুরে আওয়ামী লীগেরও সমাবেশ হয়েছে। উপস্থিতির বিচারে দু’টি সমাবেশেই সমপরিমাণ লোক সমাগম হয়েছে। বরং গাজীপুরের সমাবেশে কারও কারও মতে সিলেটের সমাবেশের চেয়ে বেশি মানুষ হয়েছে। যদিওবা সেটি কোনো বিভাগীয় বা জেলা সমাবেশ নয়, সেটি ছিল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন।

“কিন্তু কোনো কোনো কাগজে, অনলাইনে দেখলাম যে গাজীপুরের সমাবেশের ছবিটা দিয়েছে মঞ্চের এবং দর্শকের একটা অংশ মাত্র। আর বিএনপির সমাবেশের ছবিটা দূর থেকে নিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে মনে হয় অনেক লোক হয়েছে।”

সাংদিকদের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “বিএনপির সমাবেশ হবে সেটি পত্রপত্রিকায় প্রচার পাবে। কিন্তু এ ধরনের উপস্থাপনা সমীচীন কি না আপনাদের কাছে প্রশ্ন।”

এ ক্ষেত্রে বিএনপির প্রভাব বা অর্থায়ন আছে কি না- এমন প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, “বিরোধীদলের কোনো ইনভেস্টমেন্ট আছে কি না বা বিরোধীদল যে জঙ্গিদের সাথে সম্পৃক্ত, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিরোধী দলের হয়ে সেই জঙ্গিদের কোনো অর্থায়ন আছে কি না সেটি একটি বড় প্রশ্ন।

“তবে আমি আশা করব যে, শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে এ ধরনের অপসাংবাদিকতা করা উচিত নয় বা সাংবাদিকতার নামে রাজনীতি করা সমীচীন নয়। অনেক সময় দেখা যায় সাংবাদিকরা হাউজে যে রিপোর্ট, যে ছবি দিয়েছেন সেটি এডিটিং প্যানেলে গিয়ে পরিবর্তন হয়ে যায়। এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।”

বিএনপি সমাবেশের নামে ‘বড় পিকনিক’ করছে দাবি করে তিনি বলেন, “অনেক ব্যবসায়ী আমাদেরকে অভিযোগ দিয়েছেন- বিএনপি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি বিএনপির সমাবেশগুলো আসলে বড় পিকনিক। সিলেটের সমাবেশে তারা তিন দিন আগে গেছে, হোটেলে খাওয়া দাওয়া, তাস খেলা আবার মাঠের মধ্যে তাবু টানিয়ে রান্নাবান্না করে খেয়েছে- এটা একটা বড় পিকনিক।

“শীতের সময় আমরা যেমন পিকনিকে যেতাম, বিএনপির নেতাকর্মীরাও শুধু সিলেট অঞ্চল থেকে নয়, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, ঢাকা থেকেও গেছে এবং সেখানে গিয়ে সমাবেশের নামে বড় পিকনিক করেছে এবং এগুলোর জন্য সারাদেশে চাঁদাবাজি করছে।”

১০ ডিসেম্বর নয়া পল্টনে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া না হলে বিএনপি ঢাকা শহরে সমাবেশ করবে- এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “বিএনপি যে ধরনের গণসমাবেশ করতে চায় সে জন্য উপযুক্ত জায়গা হচ্ছে পূর্বাচল। মিরপুর ও বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়েও জায়গা আছে, সেগুলোও অনেকে বলছে। বিএনপি যে সভা সমাবেশ করছে, সরকার তাদেরকে সর্বতভাবে সহায়তা করছে।

বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা কোনো সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না, নিয়ন্ত্রণ করি না- করাও হবে না। কিন্তু সমাবেশের নামে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা করে তাহলে সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের স্বার্থে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

‘তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনে দেশে দ্বিতীয়বারের মত বিএনপি দেশ স্বাধীন করবে,’ এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, “তারেক রহমানের কথা বললেই মানুষ আঁৎকে উঠে। এদেশের মানুষের কাছে তারেক রহমান হচ্ছে দুর্নীতির প্রতীক, সন্ত্রাসের প্রতীক, নৈরাজ্যের প্রতীক। তারেক রহমান দেশকে পরপর দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন করার প্রতীক, হাওয়া ভবনের লুটপাটের প্রতীক এবং দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার শাস্তিপ্রাপ্ত আসামি।

“তারেক রহমানের নেতৃত্বে উনারা দেশে আন্দোলন করবেন অর্থাৎ তারা আবার জ্বালাও-পোড়াও শুরু করবে, আবার মানুষ পোড়াবে। জনগণ এগুলো হতে দেবে না। তারা যতই তারেক রহমানের কথা বলে ততই তারা জনগণ থেকে দূরে সরে যায়।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক