২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

জাপানের সঙ্গে চুক্তির নামে ভারতকে ‘স্বার্থ’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে: আখতার

“ঘুরিয়ে জাপানের মাধ্যমে দিল্লিকে সুবিধা দিবেন। বাংলাদেশের মানুষরা কিন্তু এই চালাকিগুলা বুঝতে পারে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Oct 2026, 09:47 PM

Updated : 27 Oct 2026, 09:47 PM

জাপানের সঙ্গে চুক্তির নামে বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে গিয়ে ভারতকে ‘স্বার্থ’ দেওয়ার এক ধরনের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন জাপান সফরে আছেন। সেই জাপান সফরে বাংলাদেশের সাথে জাপানের কিছু চুক্তি হবে। কিছু এমওইউ স্বাক্ষর হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। গুঞ্জন আছে, জাপানের সাথে চুক্তির নামে বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে গিয়ে ভারতকে স্বার্থ দেওয়ার এক ধরনের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।

“এটা বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় আসার আগেই ভারতের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এসেছে যে, বাংলাদেশের মাতারবাড়ি পোর্টকে দক্ষিণ ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের যে শহরগুলো আছে, তার সাথে কানেক্টেড করে এক ধরনের পরিকল্পনা সাঁজানো হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলি, আপনারা এখন দিল্লিতে যেতে পারবেন না, সে কারণে ঘুরিয়ে জাপানের মাধ্যমে দিল্লিকে সুবিধা দিবেন। বাংলাদেশের মানুষরা কিন্তু এই চালাকিগুলা বুঝতে পারে।”

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল এলাকায় মঙ্গলবার এনসিপির এক গণসংযোগ কর্মসূচিতে কথা বলছিলেন আখতার হোসেন।

আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশকে সামনে রেখে এই গণসংযোগ চালাচ্ছে এনসিপি।

সরকারকে সাবধান করে আখতার হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থকে বিক্রি করে দিয়ে, বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের কাজে আপনারা লেগে পড়বেন, ভারতের কাছ থেকে আপনারা সমর্থন আদায় করবেন, ভারতের কাছ থেকে ক্ষমতায় টিকে থাকার রসদ সংগ্রহ করবেন, সেই বৈধতা তাদের কাছ থেকে নিয়ে আসবেন এটা বাংলাদেশের মানুষেরা আর গ্রহণ করবে না।

“এটা অতীতে বাংলাদেশে ঘটেছে যে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিল। তারা ভারতের ব্যাকআপে ভারতের সমর্থন নিয়ে ভারতের কুটচালে বাংলাদেশের মানুষের উপরে একটা স্বৈরাচার চাপিয়ে দিয়েছিল। এ দেশের মানুষেরা চব্বিশের অভ্যুত্থানে সেই ভারতের সেবাদাস আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। অতএব সামনে যাতে একই ধরনের পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষেরা সজাগ আছে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনবতির জন্য কর্মসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবি তোলেন এনসিপির জেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। মন্ত্রীকে ‘সাজাপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উনি, আমরা দেখতে পাচ্ছি আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এক ধরনের আবার ছলাকলা শুরু করে দিয়েছেন।

“নিজেকে এত চালাক ভাবার দরকার নাই। রাস্তার মধ্যে আপনি একা বের হইতেও পারবেন না। আপনার নিজের দলের মানুষই কিছুদিন পরে আপনার বিচার করবে। আমরা বিচার করার লাগবে না।”

দলের জেষ্ঠ সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ বলেন, “সরকার গঠিত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ৩ জন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছে। আগামী তিন চার বছর যেতে যেতে এই সরকার থাকে নাকি অন্য সরকারে রূপ নেয় সেটা নিয়েও কিন্তু একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে।’’