Published : 12 Jul 2025, 08:47 PM
পুরান ঢাকায় মাথা থেঁতলে হত্যাকাণ্ডসহ কয়েকটি ঘটনার অতিদ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার বিকালে গুলশানে হোটেল লেকশোরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এমন দাবি জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, যে ঘটনাগুলো ঘটছে সরকারকে আহ্বান জানাব, অতিদ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত যারা অপরাধী তাদেরকে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করুন।
‘‘অন্যথায় জাতি আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না, জাতি আপনাদেরকে দায়ী করবে- গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে নেওয়ার এ সময়ে এসব সমস্যা তৈরির জন্য।”
‘বিএনপি কোনদিন অন্যায়কে সমর্থন করে না’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আপনারা যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন আর কিছুদিন ধৈর্যের সঙ্গে আপনারা অপেক্ষা করুন, গণতন্ত্রের জন্য এবং সবাইকে বিরত রাখুন কেউ যেন অন্যায় কাজ করতে না পারে।
‘‘বিএনপি কোনোদিন কোনো অন্যায়কে সমর্থন করেনি। বিএনপি কখনো করবে না। বিএনপি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অতীতেও করেছে এবং এবারও করবে।”
গুলশানে হোটেল লেকশোরে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণঅভ্যুত্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নিহতদের স্মরণে সংগঠনটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
‘দ্রুত নির্বাচন চাই’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বাংলাদেশে রাষ্ট্র ব্যবস্থা রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন করে একটা নির্বাচন দ্রুত চাই। কারণ গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নাই। আর গণতন্ত্রের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে নির্বাচন।
‘‘নির্বাচন নেই বলে আজকে দেশে এই ঘটনাগুলো ঘটছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে, মৃত্যু বাড়ছে, দুবৃর্ত্তরা সুযোগ নিচ্ছে কারণ তাদের পেছনের জনগণের সমর্থন নেই। কিন্তু একটা নির্বাচিত সরকার আসলে নি:সন্দেহে সেটা শক্তিশালী সরকার হবে।”
তিনি বলেন, ‘‘আমি আবারও এই আশার কথা বলতে চাই যে, আমরা নিশ্চয়ই সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থেকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।’’
ছাত্রদলের আত্মত্যাগকারী নিহতদের নিয়ে একটি পুস্তক তৈরির পরামর্শ দেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে শহীদদের যথাযথ সন্মান দেবে।”
জুলাই-আগস্টের নিহত এবং আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং পূনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি দাবি জানান মির্জা ফখরুল।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় নিহত পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বক্তব্য রাখেন।