Published : 22 Jul 2025, 11:59 PM
নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, দুর্নীতি দমন কমিশন কিংবা ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান কেমন হবে, সে বিষয়ে নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
মঙ্গলবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় কমিশন এসব প্রস্তাব তুলে ধরে। এরপর তারা এসব বিষয়ে দলগুলোর কাছে মতামত চায়।
আলোচনার শেষ ভাগে সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, “এসব প্রস্তাব নিয়ে কিছু দল ইতিবাচক মত দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
“বুধবার এ আলোচনার বিস্তারিত অংশ শুরু হবে। কমিশন এমন প্রস্তাবও দিয়েছে যে, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহাহিসাব নিরীক্ষক (সিএজি) এবং ন্যায়পালের নিয়োগ পদ্ধতিও সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে স্পিকারের নেতৃত্বে বাছাই কমিটি করার বিষয়টি সংবিধানে সংশোধন করে যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী সিইসি ও ইসি নিয়োগে ৭ সদস্যের বাছাই কমিটি থাকবে, বিদায়ী ইসির ৯০ দিন আগে অনুসন্ধান শুরু হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের প্রস্তাবে বলেছে, পিএসসি হবে তিনটি। প্রতিটিতে একজন চেয়ারম্যান ও ৭ জন সদস্য থাকবেন। বাছাই কমিটিও হবে একই পদ্ধতিতে।
মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের নিয়োগও বাছাই কমিটির মাধ্যমের মাধ্যমে করতে চায় ঐকমত্য কমিশন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়ে তারা বলছে, চার সদস্যের কমিশনের মেয়াদ হবে চার বছর। সেটাও হবে বাছাই কমিটির মাধ্যমে।
সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর মত করে ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে ঐকমত্য কমিশন।
কমিশন মনে করে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চিত করার মতো বিষয়সমূহ সরাসরি সংবিধানেও উল্লেখ করা যেতে পারে। পাশাপাশি যোগ্যতা-অযোগ্যতা, বয়সসীমা, কাজের শর্ত ও কর্মপরিধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা, পদত্যাগ ও পুন:নিয়োগ লাভের সুযোগ কিংবা অধিকার ইত্যাদি নিয়ে আইন হবে।
নির্বাচন কমিশন নিয়ে যা বলছে কমিশন
>>জাতীয় সংসদের স্পিকার হবেন বাছাই কমিটির প্রধান। ডেপুটি স্পিকার (যিনি বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন), সংসদ নেতা, বিরোধী দলের নেতা, তৃতীয় বৃহত্তম দল বা প্রধান বিরোধী দল ছাড়া অন্যান্য বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপ্রতির একজন প্রতিনিধি (নির্দলীয় ব্যক্তি এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন) এবং প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি হিসাবে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি টিম/দল/বাছাই কমিটি থাকবে।
>> প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগে বিদায়ী ইসির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গের নিকট হইতে আইনের দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে 'ইচ্ছাপত্র' ও 'জীবন বৃত্তান্ত' আহবান করা ও উপযুক্ত প্রার্থীর অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করিবেন।
>> অনুসন্ধানে পাওয়া ব্যক্তিদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই একজন সিইসি ও চার নির্বাচনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে, তাদেরকে ৫ বছরের জন্য নিয়োগ দেবেন তিনি।
সরকারি কর্ম কমিশন হবে তিনটি
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন একাধিক (তিনটি) পিএসসি গঠনের সুপারিশ করায় ঐকমত্য কমিশনও একই প্রস্তাব রেখেছে।
সংবিধানের ১৩৭ সংশোধন কিংবা বিলুপ্তি করে তিনটি সরকারি কর্ম কমিশন হবে। প্রতিটি কমিশনের একজন চেয়ারম্যান বা সভাপতি ও সাতজন সদস্য থাকবেন।
>> জাতীয় সংসদের স্পিকার হবেন বাছাই কমিটির প্রধান।
>> সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান/সভাপতি ও সদস্যদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, বয়সসীমা, কর্মের শর্তাবলী ও কর্মপরিধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকবে আইনে।
মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
সংবিধানের ১২৭(১)অনুচ্ছেদে সংশোধন করার প্রস্তাব।
একজন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োহের জন্য বাছাই কমিটি থাকবে। ইসি, পিএসসি নিয়োগ পদ্ধতির মধ্যে বাছাই কমিটি কাজ করবে।
নতুন সাংবিধানিক সংস্থা দুদক হবে ৫ সদস্যের
বর্তমানে দুদক সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। এটাকে সাংবিধানিক সংস্থা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন থাকবে তা সংবিধানে যুক্ত করতে হবে।
>> প্রধান বিচারপতি ছাড়া আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি এই বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটির চেয়ারম্যান হবেন।
>>দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান/সভাপতি ও অন্যান্য কমিশনারসহ পাঁচজনের মধ্যে একজন নারী থাকবেন।
>>মেয়াদ হবে ৪ বছর।
>> যোগ্যতা-অযোগ্যতা, বয়সসীমা, কর্মের শর্তাবলী ও কর্মপরিধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা, পদত্যাগ ও পুন:নিয়োগ লাভের সুযোগ/অধিকার ইত্যাদি আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।
ন্যায়পাল
সংবিধানের বর্তমান অনুচ্ছেদ ৭৭ সংশোধন করার প্রস্তাব।
>>একজন ন্যায়পাল থাকবেন।
>>বাছাই কমিটি অনুসন্ধান শেষে একজনকে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি, মেয়াদ হবে ৫ বছর।
>>ন্যায়পাল পদে নিয়োগের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, দায়িত্ব, এখতিয়ার, কার্যপরিধি, জবাবদিহিতার পদ্ধতি, অপসারণ পদ্ধতি, পদত্যাগের অধিকার, সচিবালয় সৃষ্টি ও পরিচালনা, ইত্যাদি বিষয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা অথবা সংসদের মাধ্যমে আইন দ্বারা নির্ধারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে বলে মনে করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
আরও পড়ুন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার: ঐকমত্য কমিশনের সমন্বিত প্রস্তাবে যা আছে