এই সেতু ‘অপমানের প্রতিশোধ’: কাদের

প্রমত্তা পদ্মার বুকে বাস্তবে রূপ পাওয়া পদ্মা সেতুর পাদদেশে দাঁড়িয়ে সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই সেতু বঙ্গবন্ধু পরিবার ও বাঙালিদের অপমানের প্রতিশোধ।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 June 2022, 05:55 AM
Updated : 25 June 2022, 12:08 PM

শনিবার মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে দেশের বৃহত্তম এ সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে একথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে কাদের বলেন, “গোটা জাতি আপনাকে স্যালুট করে। সারা বিশ্বে আজ আপনি প্রশংসিত। আপনি প্রমাণ করেছেন ইয়েস উই ক্যান। নিজের টাকায় পদ্মাসেতু নির্মাণ করেছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাথা নত করেনি।”

ষড়যন্ত্রের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “কী দুঃসময়, কী চ্যালেঞ্জ, কী কঠিন সময়। সবকিছুকে অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন আমরা বীরের জাতি। শেখ রেহানার কী অপরাধ ছিল। জয়ের কী অপরাধ ছিল, পুতুলের কী অপরাধ ছিল, ববির কী অপরাধ ছিল। একটা পরিবারকে টার্গেট করে অপমান করা হয়েছে। বাঙালি জাতিকে অপমান করা হয়েছে।

“অপবাদ দিয়েছে দুর্নীতির। আজকে বঙ্গবন্ধু পরিবার, সাবেক উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সচিব অনেককে অপমান করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা আমি মনে করি সক্ষমতার প্রতীক, এটা সত্য। তার চেয়ে বড় সত্য আমরা আমাদের প্রতিশোধ নিয়েছি।”

এক দশক আগে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্যোগ জোরেশোরে শুরু করে। প্রকল্পের প্রথম দিকের কাজ গুছিয়ে এগোনোর পথেই বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে অর্থায়ন থেকে সরে যায়। সরকারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে সাময়িক শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল। তখন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার অপপ্রচার করেছিল কেউ কেউ।

এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ব ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোকে বাদ রেখে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদী পদ্মার বুকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয় সাত বছরেই।

বিতর্ক আর সমালোচনার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে নিজেদের অর্থায়নে দেশের বৃহত্তম এ সেতুর উদ্বোধনের দিনে ওবায়দুল কাদের সেই সমালোচনার জবাব দেন।

খরস্রোতা পদ্মায় নদীশাসনসহ সেতু নির্মাণের প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আজ বারে বারে মনে পড়ে এই পদ্মাপাড়ে মাওয়া, লৌহজং, জাজিরা, শিবচরে ভাঙন। কাজ শুরু করাই ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জ।

“শেখ হাসিনার… তিনি যদি না থাকতেন আমরা এই প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে পারতাম না। চায়না মেজর ব্রিজের মালামাল পর্যন্ত নদীতে ভেসে যাচ্ছিল। আমি আজ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি, শেখ হাসিনার মুখের দিকে চেয়ে পদ্মার দুই পাড়ের মানুষ নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি ত্যাগ করেছিল।”

আবেগ ভরা কণ্ঠে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “সেতু নির্মাণে অন্য কারও কোনো কৃতিত্ব নেই। একমাত্র কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার। তার নামে পদ্মা সেতুর নাম হওয়ার কথা ছিল। সারাবাংলার দাবি ছিল এটা। কিন্তু তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।”

আরও খবর

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক