Published : 03 Jun 2026, 09:39 PM
গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এই বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ দেশের সব মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
ঢাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইটে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হবে।
বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক চরম ও নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করা সাধারণ মানুষের ওপর এক বড় ধরনের জুলুম।”
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পিঠ ‘এমনিতেই দেয়ালে ঠেকে গেছে’ মন্তব্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, “এর ওপর বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দেবে।”
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বাড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছে, তার সমালোচনা করা হয় বিবৃতিতে।
বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী, পাইকারিতে বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিদ্যুতের এই দাম বাড়ার কারণে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ ‘ব্যাপক আকারে’ বৃদ্ধি পাবে। কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে আসবে এবং চাল, ডাল, তেলসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলবে।
“বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে” বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।