Published : 23 Jul 2026, 06:26 PM
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অফিস সহায়ক পদে চাকরিতে যোগ দিতে এসে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার চার ব্যক্তির মধ্যে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
গ্রেপ্তার অন্য আসামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত এ আদেশ দেয় বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- সিরাজগঞ্জের আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের রাসেল রানা লিটন এবং গাজীপুরের মাসুদ ফকির। কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে টাঙ্গাইলের আব্দুল আলিমকে।
গত রোববার বিকেলে সচিবালয় থেকে তাদের আটক করে মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান প্রতারণার অভিযোগ এনে শাহবাগ থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আবদুল গাফফার (হিমেল) আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বৃহস্পতিবার।
এ দিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল লতিফ তালুকদার রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহায়কের শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর যথাক্রমে ২৭৮৪ জন এবং ২৩৭০৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। গ্রেপ্তার ৪ জন অফিস সহায়ক পদের প্রার্থী ছিলেন। এই পদে প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা হয় গত ১৯ মে।
অফিস সহায়ক পদে ৯৩১৮ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষা দেন এবং ১০৭ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। পরে ২৪, ২৫ ও ২৮ জুন তাদের মৌখিক পরীক্ষা হয়। এ সময় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সবার প্রবেশপত্রসহ ছবি তুলে রাখে।
ভাইভা শেষে ৬ জুলাই অফিস সহায়ক পদে ২০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। রোববার ছিল তাদের চাকরিতে যোগ দেওয়ার দিন। সে অনুযায়ী অন্যদের সঙ্গে ওই চারজনও মন্ত্রণালয়ে আসেন। কিন্তু ভাইভার দিন তোলা ছবির সঙ্গে চেহারা না মেলায় কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়।
পরে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ওই চারজন স্বীকার করেন, তাদের হয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল অন্য লোক।