Published : 23 Jul 2026, 06:17 PM
বরিশালের গৌরনদীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের রুটিতে ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার উপজেলার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহিম এ কথা জানান।
এর আগে বুধবার বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর জন্য দেওয়া মিড-ডে মিলের রুটিতে একটি ধারালো ব্লেড পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ইউএনও ইব্রাহিম বলেন, “বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। তবে রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ফোন করি। ঘটনাটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তাকে জানানো হয়নি। খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে কি না, তা জানতে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাকে এক কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তদন্ত কমিটির প্রধান গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ। বাকিরা হলেন- হাসপাতালের পুষ্টি বিষয়ক চিকিৎসক, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্যানিটারী কর্মকর্তা। তাদের আগামী পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেকেন্দার শেখ বলেন, “তদন্ত কমিটিতে আমাকে আহবায়ক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মৃধাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির তালিকা আমি পায়নি। পেলে অন্য সদস্যদের নাম বলতে পারবো।”
ইউএনও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, খাবার বিতরন করা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়া গেছে সঠিক। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করেছি, তারা জানিয়েছেন এ রুটি তাদের নাও হতে পারে। ঠিকাদারের দাবি স্কুলের শিক্ষকদের কোন ষড়যন্ত্রও হতে পারে। সবার সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, কোথাও বড় ধরনের একটি ত্রুটি থাকতে পারে।”
“এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির দায়িত্ব হবে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের গুণগত মান যাচাই করা এবং খাবার যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরবরাহ করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা।”
বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলমতাজ বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টিফিনের জন্য দেওয়া রুটি ছিঁড়ে তার ভেতরে একটি ব্লেড দেখতে পায়। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শ্রেণিশিক্ষক শারমিন জাহানকে জানায়।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা সায়ফুন নাহার বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মৃধাকে অবহিত করা হয়েছে।
রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খান বলেন, “কোকাকোলা ম্যানুফ্যাকচারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে স্কুলগুলোতে রুটি সরবরাহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় (ফুল অটোমেটিক) পদ্ধতিতে রুটি উৎপাদন করে।
“উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো ধাতব বস্তু ঢুকলে তা মিক্সিংয়ের সময় গুঁড়া হয়ে যাওয়ার কথা। তাই এত বড় একটি আস্ত ব্লেড রুটির ভেতরে থাকার কথা নয়। তারপরও যদি কোনো ধাতব বস্তু পাওয়া যায়, সে বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের মেটাল ডিটেক্টর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।”