Published : 14 Jul 2026, 01:23 AM
ভারি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত না করায় প্রশাসনের সমালোচনা করে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার একদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য মো. জাহিদ হাসানকে প্রক্টর অফিসে তলব করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সোমবার রাতে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাহিদ হাসানকে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রক্টর অফিসে হাজির করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
চিঠিতে বলা হয়, জাহিদ হাসান ফেইসবুকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যকে নিয়ে ‘মানহানিকর বিরূপ মন্তব্য’ করেছেন। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ কারণে তাকে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রক্টর অফিসে হাজির করার জন্য বিভাগের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জাহিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
ভারি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা না করায় রোববার রাতে এক ফেইসবুক পোস্টে জাহিদ দাবি করেন, কয়েক দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার বিষয়ে বিকেল থেকেই জকসুর পক্ষ থেকে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও রাত পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
পোস্টে উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দিনের সঙ্গে কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশট যুক্ত করে তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে জকসুর নেতারা উপাচার্য ও ট্রেজারারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে উপাচার্য জকসুর ভিপির ফোনও ধরেননি।
প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল সময়েই প্রশাসন ব্রেইনলেস কাজে এগিয়ে থাকে। বর্তমান প্রশাসনের ওপর আমাদের আস্থা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু এই সহজ সিদ্ধান্ত নিতেও যদি তাদের রকেট সায়েন্স বুঝতে হয়, তাহলে আমাদের কিছুই বলার নাই আসলে।
“প্রশাসন তো একটা ফাইজলামি কাজ করল। ঢাবি ছাত্রদল নেতা আবিদ ভাইয়ের মত করে বলতে হয়, ‘হে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ (উচ্চ স্বরে)।”
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাহিদের ফেইসবুক পোস্টে মানহানির বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে। সেও মতপ্রকাশ করতে পারে, তবে অশালীনভাবে নয়।
“আমি নিজে আজ প্রায় ১০ বার তার মোবাইল ফোনে কল করেছি, কিন্তু সে ফোন রিসিভ করেনি। তাই তার বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাকে মঙ্গলবার প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য জানানো হয়েছে।”
প্রক্টর অফিসের নোটিস পাওয়ার পর সোমবার রাতে জাহিদ হাসান আরেকটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “গতকালের ফেইসবুক পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্টর অফিস থেকে আমাকে মঙ্গলবার ডাকা হয়েছে। জবি প্রশাসন এবং মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের বিরুদ্ধে নাকি আমি মানহানিকর পোস্ট করেছি। পোস্টটি দেখে আপনারাই একটু জানাবেন, কোন বিষয়টি মানহানিকর ছিল।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য জাহিদ হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি মানহানিকার কিছু লিখিনি। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে লিখেছি। আর এটা আমার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কাল আমি প্রক্টর অফিসে যাব।”