বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নির্বাচনের পার্থক্য নিয়ে যা বললেন কাদের

তার ভাষ্য, “পাকিস্তানের গণতন্ত্র আর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যোজন যোজন ব্যবধান।”

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Feb 2024, 09:52 AM
Updated : 9 Feb 2024, 09:52 AM

বাংলাদেশের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমাদের যে ধরনের মাতামাতি দেখা গিয়েছিল, পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে ‘তেমনটা দেখা যায়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তার ভাষ্য, গণতন্ত্রের প্রশ্নে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান রয়েছে 'যোজন যোজন দূরত্বে'।

শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাদের বলেন, “পাকিস্তানের গণতন্ত্র আর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যোজন যোজন ব্যবধান। দুনিয়ার কোনো দেশে তত্ত্বাবধায়ক নেই, কিন্তু পাকিস্তানের তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক ধরে রেখেছে।

" নির্বাচনে বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের মধ্যে পার্থক্যটা হল, আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে মাতামাতি করে, ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয় আনে, কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এ নিয়ে মাতামাতি নেই। অথচ পাকিস্তানের নির্বাচনে সহিংসতা, ভোট কারচুপি, জালিয়াতি, ৯ জনের প্রাণহানিও ঘটেছে। বেলুচিস্তানে বোমা বিস্ফোরণ কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে।”

বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে কাদেরের ভাষ্য, “আমরা গণতন্ত্রের ট্রু ফর্ম অনুসরণ করি। নির্বাচনে বিরোধীদল আসেনি, কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আমরা বলছি না আমাদের গণতন্ত্র শতভাগ পারফেক্ট। গণতন্ত্রের ছবক দেয় যে পশ্চিমা বিশ্ব, তারাও পারফেক্ট নয়।”

শনিবার অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা নিয়ে এক প্রশ্নে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের দলের সুদৃঢ় ঐক্যের দরকার। কৌশলগত কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন করেছে। যে নির্বাচনে ৬২ জন নির্বাচিত হয়েছেন। তারও কিন্তু আওয়ামী লীগের। অনেকে আওয়ামী লীগের পদধারীও আছে। নির্বাচনে নিজেদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি, মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব, সংঘাতের মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে।

"সবকিছু ভুলে গিয়ে উপজেলা নির্বাচন, মেয়র নির্বাচন পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে মনোমালিন্য যেন কোনো সংঘাত সৃষ্টি না করে, সেজন্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সবার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ আবহ তৈরির জন্য এই বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে এক প্রশ্নে কাদের বলেন, “যতটুকু জানি, তার অনেকগুলো মামলায় জামিন হয়েছে। একটি মামলা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মামলায় তার ক্ষেত্রে একটু অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

“হয়তো একটা সময় জামিন হয়ে যাবে। একজন বিনা বিচারে আটকে থাকবে এটা সরকারও চায় না। জামিন হয়নি, ভবিষ্যতে হবে না এটা ঠিক নয়।”

বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, “বিএনপি নেতাদের বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। একেক জন একেক কথা বলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মুখপাত্র। তিনি বললে সেটা দলের বক্তব্য।”

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশের চিকিৎসা প্রসঙ্গে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, “পারিবারিকভাবে আবেদনটা করুক। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় কীভাবে সুপারিশ করে তারপর বলা যাবে।”

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সুজিত রায় নন্দীসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।