Published : 02 Apr 2026, 03:42 PM
গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
শনিবার বিকালে রাজধানী ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে এই জোট।
গুলশানে জোটের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
বুধবার সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে আনা মূলতবি প্রস্তাবে ‘প্রতিকার’ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে জামায়াত।
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা ঠিক করে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। আর সেসব সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন হয় গণভোট।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা। সংসদের মতই সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা।
জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা সেদিন দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।
রোববার বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধি অনুসারে জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নোটিস দেন।
এছাড়া সোমবার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য একটি মুলতবি প্রস্তাব আনেন। তবে সেই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব নিয়ে মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওই প্রস্তাবে ‘প্রতিকার’ না পাওয়া এবং তাদের প্রস্তাব চাপা দিতে একই বিষয়ে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব আনার অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ‘ওয়াক আউট’ করে বিরোধী দল।
এরপর সংবাদ সম্মেলনে এসে শফিকুর রহমান বলেছিলেন, “আমরা আবার জনগণের কাছে ফিরে যাবো। যেই জনগণ এই রায় দিয়েছিল, সেই জনগণের কাছে ফিরে যাবো। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের এই দাবি কীভাবে আদায় করা যায়, সেই কার্যক্রম আমরা গ্রহণ করবো।”
বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যের পর বৃহস্পতিবার জামায়াত জোটের নেতা বৈঠক করলেন।
বেলা ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত লশান-২ এলাকায় জামায়াতের আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বাসায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ১১ দলের শীর্ষনেতারা অংশ নেন।
বৈঠক শেষ সাংবাদিকদের সামনে আসেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
শনিবার জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচির সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও জনমত গঠনের কর্মসূচি নেওয়া হবে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা জোটের একজন নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সংসদের কর্মকাণ্ড ও আলাপ আলোচনার কথা তুলে ধরেছেন বৈঠকে।
তিনি বলেন, জোটের নেতারা মনে করছেন বিএনপি সংস্কার করবে না, সংবিধানে কিছু সংশোধনী আনতে চায়। এজন্য তাদের মাঠে থাকতে হবে। প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে।
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন বলেছেন, বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ৭ এপ্রিল জোটের শীর্ষনেতাদের পরবর্তী বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নেয়ামূল বশির।
আগের খবর:
'প্রতিকার না পাওয়ার' অভিযোগে বিরোধী দলের ওয়াকআউট