১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যে কারণে সিরিজের মাঝপথেই উইলিয়ামসনের বিদায়

টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই উইলিয়ামসনের অবসরের ঘোষণা চমকে দিয়েছে নিউ জিল্যান্ড দলকেও।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jun 2026, 12:21 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:23 PM

লর্ডস টেস্ট শুরুর আগে কেন উইলিয়ামসন বলেছিলেন, এই মাঠে এটিই তার শেষ টেস্ট। কিন্তু তার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট হয়ে যাবে এটি, কে ভাবতে পেরেছিল! উইলিয়ামসন নিজেও আসলে তখনও জানতেন না। পরের কয়েক দিনের বদলে গেছে তার ভাবনা।

গত সপ্তাহে লর্ডসের ব্যালকনিতে বসে উইলিয়ামসন ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে শুরু করেন, ১১০তম টেস্টই হবে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।

পরের কয়েক দিনে মা-বাবা ও সঙ্গিনীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি, তাতে তার ভাবনা আরও পোক্ত হয়। এরপর দলের ঘনিষ্ঠ সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করেন, এর মধ্যে ছিলেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। পরে প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার এবং টিম ম্যানেজার মাইক স্যান্ডলকে জানিয়ে দেন, তার সময় শেষ। 

তার ছোট্ট কথা, “সরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই সঠিক সময় বলে মনে হচ্ছে।”

নিউ জিল্যান্ড দলে তার বেশির ভাগ সতীর্থ খবরটি জানতে পারেন শুক্রবার সকালে, ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের একটু আগে। টিম হোটেলে স্বভাবসুলভ আয়েশি ভঙ্গিতে কোনো কারণ ছাড়াই ‘কফি ও আড্ডার’ জন্য সবাইকে ডাকেন তিনি। সেখানেই জানান যে, দেশের হয়ে শেষ ম্যাচটি তিনি খেলে ফেলেছেন।

তার সিদ্ধান্ত, শেষ করে সিদ্ধান্তের সময়টা চমকে দিয়েছে নিউ জিল্যান্ড দলসহ ক্রিকেট বিশ্বের অনেকেই। ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি মোটে শেষ হয়েছে। সামনের মৌসুমে আছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ। কিন্তু উইলিয়ামসন নিজের ভাবনায় পরিষ্কার, দলে পুরোপুরি নিবেদিত না হয়ে শুধু রেকর্ডে কয়েকটি ম্যাচ যোগ করার কোনো আগ্রহ তার নেই এবং তিনি নিশ্চিত বুঝতে পেরেছেন যে, তার সময় শেষ হয়ে এসেছে।

“এখন যখন ড্রেসিংরুমের দিকে তাকাই এবং এখানকার প্রতিভাবান ছেলেদের দেখি, আর এই দল যে পথে এগোতে চাইছে বলে মনে হয়, আমার মনে হয়েছে, সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় এটিই। এটি নিয়ে আমি বেশ ভালো অনুভব করছি। অনেক কিছু নিয়ে ভাবলেই ব্যাপারটা মজার মনে হয়, কিন্তু সব ভালো কিছুরই শেষ আছে, আর এখন তো মৌসুমও বদলাচ্ছে।”

দুই বছর আগে বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই নিউ জিল্যান্ডের হয়ে বেছে বেছে খেলছেন তিনি। 

“এটা আমার মাথায় ছিল না। তবে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে থাকলে প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিতে এবং পুরোপুরিভাবে নিজেকে সঁপে দিতে হয়, কারণ এটাই করে এসেছি সবসময় এবং দলের বাকি সবার কাছ থেকেও এটাই আশা করি, আর তারাও নিঃসন্দেহে খুব ভালোভাবে তা করে থাকে। আর হ্যাঁ, কিছুটা আত্মোপলব্ধিও ছিল।”

“ম্যাচটি যথেষ্ট আকর্ষণীয় ছিল, কিন্তু ড্রেসিংরুমের ব্যালকনিতে বসে এটা নিয়ে কিছুটা ভাবছিলাম, এবং পরের দিনগুলোতে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় নিচ্ছিলাম… নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দলের সঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য কৃতজ্ঞ থাকার এই অনুভূতিটুকু আমার খুব ভালো লাগে, এবং সেই সঙ্গে দলের মধ্যে যে রোমাঞ্চ ও সম্ভাবনা দেখতে পচ্ছি, সেটাও ভালো লাগে।”

সিরিজের মাঝপথে বিদায়ের প্রশ্নটি যৌক্তিক হলেও উইলিয়ামসসের ভাবনাকে সম্মান করছেন কোচ রব ওয়াল্টার। 

“একাদশে কেন উইলিয়ামসনের নাম না থাকলে দল আরও শক্তিশালী হয় না, কারণ সে একজন কিংবদন্তি। সবাই জিজ্ঞেস করছে, ‘সিরিজের মাঝখানে কেন?’ কিন্তু তার কারণগুলো শুনলে পুরোপুরি বুঝতে পারবেন।’ 

“সে এমনই মানুষ এবং দলের প্রতি তার সম্মানকেই প্রকাশ করে এটি। সে শুধু সিরিজ শেষ করার জন্য খেলা চালিয়ে যাচ্ছে না, বরং এমন একজনকে সুযোগটি দিচ্ছে, যে তার জায়গা নেবে এবং এই দলের জন্য আরও দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা পালন করবে।”

ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড ও অর্জন লেখা হয়ে আছে উইলিয়ামসনের নামের পাশে। তবে তিনি স্মরণীয় হতে চান অন্যভাবে।

“ওহ গড , আমি এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না (কীভাবে স্মরণীয় থাকতে চান)। এমন একজন হিসেবে, যে দলকে গভীরভাবে ভালোবাসত, সবসময় আরও ভালো কিছু করতে চাইত এবং একজন ক্রিকেটার হিসেবে নিজের কাজের প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত ছিল। আমি এই সবকিছুর জন্য সত্যিই, সত্যিই কৃতজ্ঞ।”

তার এই অবসর শুধুই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও খেলা চালিয়ে যানে কি না, নিশ্চিত নন এখনও।

“যখন পরিস্থিতি আসবে, তখন সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব। খেলার ব্যাপারে আমার তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে দেখা যাক।”