Published : 10 Apr 2026, 05:38 PM
১৯৭১ সালের যুদ্ধদিনে ১০ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিল ও ১৬ ডিসেম্বর নিঃসন্দেহে অতি গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দিন। ১০ এপ্রিল ১৯৭১ বেতার ভাষণে প্রবাসী সরকার বলে পরিচিত মুজিবনগর সরকারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের আমবাগানে বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনে শপথ নেয় এই সরকার, আর ১৬ ডিসেম্বর হলো বাংলাদেশের রক্তস্নাত বিজয়ের দিন। এই তিন দিনই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার প্রধান কাণ্ডারী হিসেবে বেতার ভাষণ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তাজউদ্দীন আহমদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে যিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক নেতা এবং মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বিষয়টি খুবই বিস্ময়কর যে, খুব সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধোত্তরকালে বাংলাদেশের মানুষ এই তিনটি ভাষণের কোনটিও কোনদিন শোনেনি। আমি নিজেও আমার ৩৮ বছরের জীবনে কোনদিন যুদ্ধদিনে তাজউদ্দীন আহমদের দেওয়া এই তিনটি ভাষণের কোন অংশ বাংলাদেশের কোন গণমাধ্যমে শুনতে পাইনি। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও নয়। সবশেষ মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মুক্তিযুদ্ধে তাজউদ্দীনের ভূমিকা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, অনুষ্ঠান হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানকে পাশ কাটিয়ে রাখার কুচিন্তা অথবা আওয়ামী লীগের প্রতি ক্ষোভ বা অবজ্ঞা থেকে হলেও তাজউদ্দীনের প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার সম্মান দেখিয়েছে। কিন্তু এই ভাষণগুলো উদ্ধার ও সম্প্রচারের ব্যবস্থা কেউ করেনি। এমনকি এগুলো নিয়ে কোথাও আলাপও হয়নি।
এই নিবন্ধটি লেখার সময় সবশেষ নিরীক্ষা হিসেবে ভিডিও শেয়ারিংয়ের সামাজিক মাধ্যম ইউটিউবে সার্চ করেছিলাম। দেখলাম স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত তাজউদ্দীনের ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের একটি ভাষণ পাওয়া যায়। এছাড়া মুজিবনগর সরকার নিয়ে বিদেশি কিছু সংবাদমাধ্যমে তাজউদ্দীনের অতি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার আছে। কিন্তু পুরো ভাষণের অডিও কপি কোথাও নেই। বিষয়টি সত্যিই বিস্ময়কর। যুদ্ধদিনের এত গুরুত্বপূর্ণ এই ভাষণগুলো কখনই আলোর মুখ দেখেনি, প্রকাশ্যে আসেনি। বাংলাদেশের মানুষ কোনদিন তা শুনতে পায়নি।
আসুন একটু ফিরে তাকাই ভাষণগুলোর দিকে। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও তার উচ্চপদস্থ সহযোগীদের সঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদের দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছিল মুজিবনগর সরকারের ঘোষণা ও শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর তাগিদ ছিল, বৈশ্বিক সমর্থন আদায় ও তার দেশে অভ্যন্তরীণ চাপ মোকাবিলায় নিয়মতান্ত্রিক একটি সরকারের কাজ দ্রুত শুরু হওয়া উচিত। সে লক্ষ্যেই ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের ঘোষণা দেওয়া হয়। আর অতি গুরুত্বপূর্ণ এই ঘোষণাটি আসে তাজউদ্দীন আহমদের একটি বেতার ভাষণের মাধ্যমে। খুব সম্ভবত এই বেতার ভাষণটি দিল্লিতে এপ্রিলের ৭-৮ তারিখ রেকর্ড করা হয়েছিল, যা ১০ এপ্রিল ১৯৭১ বেতারযোগে সম্প্রচার করা হয়। উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ছিল না। তাই এই ঘোষণাটি শিলিগুড়ির একটি অনিয়মিত বেতার থেকে সম্প্রচার করা হয়, যেটির সম্প্রচার তরঙ্গ ছিল খুবই দুর্বল। তাই পরদিন অর্থাৎ ১১ এপ্রিল ঘোষণাভিত্তিক এই ভাষণটি আবার আকাশবাণী থেকে সম্প্রচার করা হয়। যে ভাষণে তাজউদ্দীন আহমদ ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ এবং এরই মধ্যে শুরু হওয়া বাংলাদেশের প্রতিরোধ যুদ্ধের একটি বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। তাতে যেমন ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণা, ঠিক তেমনি ছিল মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর ওসমান ও মেজর আহমেদের নেতৃত্বে প্রাথমিক যুদ্ধের বীরত্বগাথা। এরপর তিনি ঘোষণা দেন, “আপাতত আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মুক্ত এলাকায়। পূর্বাঞ্চলের সরকারি কাজ পরিচালনার জন্য সিলেট-কুমিল্লা এলাকায় বাংলাদেশ সরকারের আর একটি কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। আমরা এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংবাদপত্রের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, তারা যেন স্বচক্ষে এবং সরেজমিনে দেখে যান যে স্বাধীন বাংলাদেশ আজ সত্যে পরিণত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সমস্ত বন্ধুরাষ্ট্র ও পৃথিবীর সব সহানুভূতিশীল ও মুক্তিকামী মানুষের কাছে ও ‘রেডক্রস’ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে সাহায্যের আহ্বান জানাচ্ছি। যারা আমাদের সাহায্য করতে ইচ্ছুক অথচ বর্বর ইসলামবাদ শক্তি যাদের এই মানবিক কাজটুকু করার বিরুদ্ধে নিষেধ উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা এখন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।
আমরা যদিও বিদেশ থেকে পাঠানো ত্রাণসামগ্রীর জন্য কৃতজ্ঞ, কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে আজকের দিনে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ত্রাণের বাণী বয়ে আনতে পারে উপযুক্ত এবং পর্যাপ্ত হাতিয়ার, যা দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ হানাদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে এবং রক্ষা করতে পারে তার ও তার প্রিয় পরিজনের জান, মান আর সম্ভ্রম।” (তাজউদ্দীন আহমদ, পৃষ্ঠা: ১৩৭, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ, ব্যক্তিগত নোট ১৯৭১-১৯৭৩’)।
ভাষণের পরের দিকে বাংলার বুকে ইয়াহিয়া বাহিনীর গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আবারও আহ্বান জানানো হয়েছে অস্ত্র সাহায্যের। কেউ কি একটু স্মরণ করতে পারেন, যুদ্ধদিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান কোন সংবাদমাধ্যমে কেউ কোনদিন শুনেছেন কিনা?

এবার আসা যাক ১৭ এপ্রিলের ভাষণে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল একটি সন্ধিক্ষণ। এদিনই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রায় দুই শতাধিক বিদেশি সংবাদকর্মীর সামনে মুজিবনগর সরকার শপথ নেয়। এদিনও তাজউদ্দীন আহমদ একটি ভাষণ দিয়েছিলেন, যাতে তিনি স্পষ্ট করে উচ্চারণ করেছিলেন, “পাকিস্তান আজ মৃত এবং অসংখ্য আদম সন্তানের লাশের তলায় তার কবর রচিত হয়েছে। বাংলাদেশে যে শতসহস্র মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তা পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে একটা দুর্লঙ্ঘ্য প্রাচীর হিসেবে বিরাজ করছে। পূর্বপরিকল্পিত গণহত্যায় মত্ত হয়ে ওঠার আগে ইয়াহিয়ার ভাবা উচিত ছিল তিনি নিজেই পাকিস্তানের কবর রচনা করছেন। তারই নির্দেশে তার লাইসেন্সধারী কসাইরা জনগণের ওপর যে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, তা কোনোমতেই একটা জাতীয় ঐক্যের অনুকূল ছিল না। বর্ণগত বিদ্বেষ এবং একটা জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়াই ছিল এর লক্ষ্য। মানবতার লেশমাত্রও এদের মধ্যে নেই। ওপরওয়ালাদের নির্দেশে পেশাদার সৈনিকেরা লঙ্ঘন করেছে তাদের সামরিক নীতিমালা এবং ব্যবহার করেছে শিকারি পশুর মতো। তারা চালিয়েছে হত্যাযজ্ঞ, নারী ধর্ষণ, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ও নির্বিচারে ধ্বংসলীলা। বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে এর নজির নেই। এসব কার্যকলাপ থেকে এ কথারই আভাস মেলে যে ইয়াহিয়া খান ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের মনে দুই পাকিস্তানের ধারণা দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে। যদি না হতো, তাহলে তারা একই দেশের মানুষের ওপর এমন নির্মম বর্বরতা চালাতে পারত না। ইয়াহিয়ার এই নির্বিচারে গণহত্যা আমাদের জন্য রাজনৈতিক দিক থেকে অর্থহীন নয়। তার এ কাজ পাকিস্তানের বিয়োগান্ত এই মর্মান্তিক ইতিহাসের শেষ অধ্যায়, যা ইয়াহিয়া রচনা করেছেন বাঙালির রক্ত দিয়ে। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়া বা নির্মূল হওয়ার আগে তারা গণহত্যা ও পোড়ামাটি নীতির মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে শেষ করে দিয়ে যেতে চায়। ইত্যবসরে ইয়াহিয়ার লক্ষ্য হলো আমাদের রাজনৈতিক, বুদ্ধিজীবী মহল ও প্রশাসনব্যবস্থাকে নির্মূল করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানসমূহ ধ্বংস করা এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে শহরগুলোকে ধূলিসাৎ করা, যাতে একটি জাতি হিসেবে কোনো দিনই আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারি।” (তাজউদ্দীন আহমদ, পৃষ্ঠা: ১৫৬, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ, ব্যক্তিগত নোট ১৯৭১-১৯৭৩’)।
১৭ এপ্রিলের বড় পরিসরের এই ভাষণটি ছিল অত্যন্ত সুলিখিত ও ঐতিহাসিক তথ্যসমৃদ্ধ। এতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠকসহ অসহযোগ আন্দোলনের ধারাবাহিক বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। আছে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও প্রতিরোধের বীরত্বপূর্ণ কাহিনী। আবারও সেই প্রশ্ন, কেউ কি কোনদিন এই ভাষণ শুনেছেন? এই ভাষণের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড তো অবশ্যই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে থাকার কথা। সেটি কোথায়, কেন তা এতদিনেও প্রকাশ্যে আসল না? কেন বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহাসিক এই ভাষণটি শোনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দশকের পর দশক ধরে?
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ আরেকটি ভাষণ দিয়েছিলেন, যেটি সম্প্রচার করা হয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে। যে ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “বাংলাদেশে দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুক্তিসংগ্রাম আজ সাফল্যের তোরণে উপনীত হয়েছে। গতকাল বিকেল পাঁচটা এক মিনিটে সম্মিলিত ভারতীয় সৈন্যবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খাঁর নিযুক্ত ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসক হিসেবে এবং নিজের ক্ষমতাবলে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি তার অধীনস্থ পাকিস্তানি স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী, আধা সামরিক ও বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীসহ বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ করেছেন।” (তাজউদ্দীন আহমদ, পৃষ্ঠা: ১৫৯, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ, ব্যক্তিগত নোট ১৯৭১-১৯৭৩’)।

চিন্তা করে দেখুন, ঐতিহাসিক এই ভাষণটি বাংলাদেশের বিজয় উদযাপনের প্রধান অনুষঙ্গ হওয়ার কথা। এই ভাষণ ১৬ ডিসেম্বরের জাতীয় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সম্প্রচার মাধ্যমে গর্বের সঙ্গে সম্প্রচারিত হওয়ার কথা। কিন্তু বিজয়ের দিনে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের এই ভাষণ কতজন শুনেছেন? আমি নিজেও তো কোনদিন শুনিনি! যুদ্ধদিনে তাজউদ্দীন আহমদের সুলিখিত, ঐতিহাসিক তথ্যসমৃদ্ধ এই ভাষণটির রেকর্ড আজও কোথায় সংরক্ষিত আছে নাকি চিরতরে ধ্বংস করা হয়েছে—তা আমার জানা নেই। খুব সম্ভবত মুজিবনগর সরকার, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র অথবা ইতিহাস গবেষকরা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ১০ ও ১৭ এপ্রিল এবং ১৬ ডিসেম্বরের ভাষণ তিনটি মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য সম্পদ। কেউ কি আছেন, এই ভাষণ তিনটির অডিও রেকর্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেন?
তথ্যসূত্র: আহমদ, তাজউদ্দীন (২০২৬), মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশ, ব্যক্তিগত নোট ১৯৭১-১৯৭৩, ঢাকা: প্রথমা প্রকাশন। আহমদ, মহিউদ্দিন (২০২৩), ১৯৭১: ভারতের বাংলাদেশ যুদ্ধ, ঢাকা: প্রথমা প্রকাশন। হাসান, মঈদুল (২০১০), মূলধারা ৭১, ঢাকা: ইউপিএল।