Published : 07 Sep 2025, 12:37 AM
কবরে আগুন দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। প্রয়াত সংসদ সদস্য, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদলের কবর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে। তবে কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানোর ঘটনাটা নতুন, বাদলের কবরে আগুন দেওয়ার এক বছর পূর্ণ হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর এমন একটি ঘটনা ঘটল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে।
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এতসব মব হয়েছে, মব ভায়োলেন্সে মানুষ আর বিচলিত বোধ করে না। প্রায় সব ঘটনার পরই সরকারের পক্ষে বিবৃতি দিয়ে দায় সারা হয়েছে, ফলে এটাকে সরকারের রুটিন কাজ বলেই ধরে নিয়ে মবকে মেনে নিয়েছে।
তবে এবার মানুষ হতচকিত হয়ে পড়েছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র কবর ও দরবার শরিফে হামলায় হতাহতের ঘটনায়ও হয়তো এতটা হতচকিত হতো না, যদি কবর থেকে নুরাল পাগলার লাশ তুলে পোড়ানো না হতো। কবরের শান্ত নিস্তব্ধতাও এখন আর সুরক্ষিত নয়। কবরের শান্তি, লাশের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব কার? কেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা আগে থেকে কোনো খবর পেল না?
ঘটনাটা তো একদিনে ঘটেনি। ২৩ অগাস্ট ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরাল পাগলা মারা যান। পরে তারই প্রতিষ্ঠিত গোয়ালন্দ দরবার শরিফের ভেতরে মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট উঁচু বেদিতে, কাবা শরিফের আদলে রং করা কবরে দাফন করা হয় তাকে। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে এমন কিছু ঘটতে পারে বলে গোয়ালন্দের সাধারণ মানুষ পর্যন্ত অনুমান করছিল। নিদেনপক্ষে কবরটি যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হতে পারে, এটা অনুমান করার জন্য গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োজন ছিল না। তাহলে কেন কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো পর্যন্ত ঘটতে দেওয়া হলো? তর্কের খাতিরে বলা যেতে পারে, এই ব্যর্থতা শুধু প্রশাসনিক নয়, সামাজিক আস্থা এবং নৈতিকতারও ক্ষয়। সমাজের ওপর দায় চাপানো, বিরোধীপক্ষকে দোষারোপ করে ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়া যায় না। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এমনটাই করতেন, যে কোনো কিছুতে জনগণের সামনে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এনে হাজির করা হতো তার দেড় যুগের শাসনামলে।
শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক ভুলগুলোর প্রধানটি হচ্ছে, বাস্তবতাকে অস্বীকার করা। তিনি আদালতকে আজ্ঞাবহ করে ন্যায়বিচারের পথ সঙ্কুচিত করেছিলেন। আদালতকে ব্যবহার সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্তির মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন। ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনে পুনর্বার ক্ষমতাসীন হন। এরপর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তার সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনসহ সরকার বিরোধী মত দমনে গুম-খুনের বিস্তার করে নিপীড়ক, ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচার হয়ে উঠা সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা শ্রমিক বা ছাত্রদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার বা দাবি আদায়ের আন্দোলনকেও বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখানোর এক উদ্ভট দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছিলেন। দৃশ্যত, ২০১৮ সালের রাতের ভোট ও ২০২৪ সালে আমি-ডামি নির্বাচন আয়োজন তার প্রায়শ্চিত্ত করার পথও রুদ্ধ করে দিয়েছিল।
দমনপীড়নের এ ধারায় গত বছর জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটাপ্রথা সংস্কারের দাবিতে ‘শেখ মুজিবের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ স্লোগানে গড়ে উঠা ছাত্রদের নির্দলীয় আন্দোলনকেও স্বৈরাচারী কায়দায় দমন করার চেষ্টাটা বুমেরাং হয়ে যায় তার জন্য। এ সময় ১৪-দলের বাইরে কারোরই সমর্থনই পাননি হাসিনা। এমনকি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে সংবেদনশীল আপামর মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের স্বৈরাচারী আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে।
ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সরকারের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও সরকার সমর্থক আওয়ামীলীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের সহিংসতাকে কেন্দ্র করে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বাত্মক অংশগ্রহণে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয়। তুমুল আন্দোলনে গত বছর ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত প্রায় দেড় দশকের স্বৈরশাসনের পতন ঘটায়। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, ডান-বামসহ সব ঘরাণার ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক দেশের জনগণকে গুলি না করার সিদ্ধান্ত এ পতনে বড় অনুঘটক হিসাবে কাজ করেছিল। শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও ভারতে পলায়নে দেশে এক শূন্যতা তৈরি হয়। হুট করেই সরকারবিহীন দেশে বেড়ে যায় মব ভায়োলেন্স, চুরি, ডাকাতি, লুটপাট, রাহাজানি ও ছিনতাই। ফলে দ্রুত সরকার গঠন জরুরি হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সরকার গঠন অনিবার্য হয়ে উঠে।
এমন প্রেক্ষাপটে, দেশের ক্রান্তিকালে, জনগণের প্রয়োজনে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রেফারেন্সে, ৮ অগাস্ট শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ইতোমধ্যে এ সরকার এক বছর পার করেছে। যে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে এ সরকার গঠিত হয়েছিল, দুঃখজনক হলেও তা ভয়াবহ রকমের কমেছে।
সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন–তিন ইস্যু সরকারের অগ্রাধিকার হলেও অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা লক্ষ্যণীয়। সুবিধাবাদীরা, ধূর্ত ও গুপ্তরা নানাভাবে সংস্কার ও বিচারকে সামনে রেখে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র করছে। তারপরও, কিছু ক্ষেত্রে সরকার সফলতা অর্জন করেছে। অর্থনীতি সেক্টরকে ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনার দৃশ্যমান প্রচেষ্টা অন্যতম। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ সরকারের ব্যর্থতা অমার্জনীয়। বিশেষ করে মব ভায়োলেন্স ঠেকানোয় তাদের ব্যর্থতা যেন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রকাশ্য দিবালোকে নির্বিচারে মাজার, বাউল, পীর-মুশরিকদের আস্তানায় হামলা-লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা শুরু হয়েছে এবং সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও তা থামেনি। বরং সরকারের কর্তাব্যক্তি যখন মব বাহিনীকে প্রেশার গ্রুপ বলে অভিহিত করলেন, তখন ক্ষেত্রবিশেষে মনে হয়েছে, কোনো ঘটনা সরকারি ইন্ধনে ঘটেছে।
সরকারের ঔদাসীন্য, বিবৃতি দিয়ে দায় সারার প্রবণতায় সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে উগ্রপন্থী, ধূর্ত ও গুপ্ত সুবিধাবাদীরা ঘোষণা দিয়ে নির্মম সহিংসতা করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে নীরব থেকেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নামমাত্র প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও মব ভায়োলেন্সের সুবিধা নেওয়া শুরু করেছে। কেউ কেউ এর শিকার হচ্ছে। পুলিশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার পর ধরে আনা আসামিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে মবের কারণে। ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পারিবারিক রেষারেষিতেও ‘মব’ ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। মব করে মুক্তিযোদ্ধাদের আলোচনা সভা পণ্ড করা, আয়োজকদের ধরিয়ে দেওয়া, জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে বারবার হামলার ঘটনায় মানুষ সরকারকেই দুষছে। মব করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কলকারখানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। মব করে বাড়িঘর বা সম্পত্তি দখলের ঘটনাও ঘটছে বলে সংবাদমাধ্যমসসূত্রে জানা গেছে।
মব ভায়োলেন্সের বাহুল্য বৈশ্বিক মিডিয়ায় আসার পর সরকারকে আমরা দেখতে পাই, বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানায়। কিন্তু, বিবৃতি দেওয়া সরকারের কাজ নয়। এটা নাগরিক সমাজের কাজ। এক্ষেত্রে সরকারের প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধ করা। চেষ্টা করেও প্রতিরোধ করতে না পারলে মব সৃষ্টিকারীদের বিচারের আওতায় আনা। কিন্তু, এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায় না। তাই একের পর এক মব সহিংসতা ঘটতেই থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ সেপ্টেম্বর একদিনে সারাদেশে অনেকগুলো মব ভায়োলেন্সের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিশেষ করে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ঘোষণা দিয়ে নুরাল পাগলা নামে পরিচিত স্থানীয় এক পীরের আস্তানা ও বাড়িতে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় মব ভায়োলেন্স হয়েছে। পীরের আস্তানা ও ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রেও মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখানোর বিধান রয়েছে। কিন্তু ধর্মের নামে এ উগ্ররা তাও করেনি। নৃশংস এ ঘটনায় দাফন করা পীরের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। ধর্মান্ধতা মানুষকে বিবেকশূন্য বর্বর করে তোলে এবং মানুষের বর্বরতার কোনো সীমা নেই, এ ঘটনা তার একটি উদাহরণ মাত্র।
একই দিনে, রাজশাহীর পবা উপজেলায় স্থানীয় এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর হয়েছে। সেখানকারী ঐতিহ্যবাহী ওরস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মব করে ওইদিন আবারও আগুন দেওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে আগুন দিতে হবে কেন? জাতীয় পার্টির জিএম কাদের ও ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ বর্তমান নেতৃত্ব তো বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আস্থাভাজন ছিলেন বলে তথ্য মেলে না। ২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মহাজোট সরকারে মন্ত্রী হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিলেন জিএম কাদের এবং তখন থেকেই তিনি শেখ হাসিনার বিরাগভাজন হন। এরশাদকে জিম্মি করে ভাবী রওশন এরশাদকে দিয়ে ২০১৪ সালের নির্বাচন যায় জাতীয় পার্টি, জিএম কাদেরের অংশ নির্বাচনে ছিল না। অথচ যখন সবাই নির্বাচন বয়কট করেছিল তখন চরমোনাইয়ের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এ সরকারের নির্বাচনগুলোকে ধারাবাহিকভাবে বৈধতা দিয়ে গেছেন। সেই চরমোনাই এখন সাধু, কিন্তু সরকারের বিরাগভাজন হওয়া জিএম কাদেররা দোসর। রাজনীতিকদের চিন্তার স্বচ্ছতা আসুক।
শুধু মাজার, ওরস বা বাউলদের আস্তানা নয়, শিল্পসংস্কৃতি চর্চাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে একটি আবৃত্তি সংগঠনের রবীন্দ্রনাথ স্মরণে অনুষ্ঠানও মব করে বন্ধ করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ স্মরণ প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়লে মানুষের পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টাগুলো মনে পড়বে। এগুলোর কোনোটিই দেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। এতে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়।
মব ভায়োলেন্স করে খুনিরা রংপুরের নিরীহ মুচি সম্প্রদায়ের রূপলাল ও তার আত্মীয় প্রদীপ লালকে খুন করেছে। দরিদ্র এ দুটি পরিবারই উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা। রূপলালের শিশুসন্তান জয়ের শৈশবকেও ধ্বংস করা হয়েছে। পরিবারের খাবার জোটাতে রূপলালের শিশুপুত্র স্কুল বাদ দিয়ে জুতা সেলাইয়ের কাজ শুরু করার খবর পত্রিকায় পড়েছি। যারা রূপলাল ও প্রদীপ লালকে পিটিয়ে মেরেছে তাদের ছবি ও ভিডিও আছে। তাদের ধরে বিচারের মাধ্যমে কঠোর সাজা দিতে হবে। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রূপলাল ও প্রদীপ লালের পরিবারকে দিতে পারে সরকার।
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা দল যদি অপরাধী হয়, সেটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবে। সরকার তাদের বিচারের আওতায় আনবে। কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তাকে হুমকির মুখে ফেলে মব ভায়োলেন্স কোনো সুস্থ মানুষই সমর্থন করতে পারে না। এটা সরকারকে অকার্যকর করে তুলে, প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলে। তাই সরকারের উচিত, সব মব ভায়োলেন্সের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
প্রায় প্রতিটি মব ভায়োলেন্সের ঘটনার ছবি, ভিডিও আছে। এসব ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সহজ। সহিংসতার শিকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা মামলা না করে থাকলে সরকার বাদী হয়ে মামলা করতে পারে। দায়ীদের কতজনকে আটক করেছে, কতজনকে বিচারের আওতায় এনেছে–তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান থাকা উচিত।
যারা মব ভায়োলেন্স এ জড়িত, তাদের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ থাকলে তাও সরকার বাজেয়াপ্ত করতে পারে। এসব সম্পদ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কাজে লাগাতে পারে। তাহলে ক্ষতিগ্রস্তদের কিছু উপশম হতে পারে। সাজা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা দৃশ্যমান হলে মব সহিংসতা ক্রমশ কমে আসবে। মব ভায়োলেন্সের ঘটনায় সরকারের বিবৃতি দেওয়া বন্ধ হোক। তার পরিবের্তে মব প্রতিরোধে সরকার সক্রিয় হোক। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সাজা নিশ্চিত করুক, এটাই মানুষের প্রত্যাশা।